গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সোমবার সকাল ১০টায় একটি বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই সভায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, জনপ্রতিনিধি এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবিরের সভাপতিত্বে সভায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভায় মূলত পূজার সময় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সর্বস্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। এবারের পূজায় মুকসুদপুর উপজেলায় মোট ৩১৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে, যার প্রতিটি পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিশেষ নজরদারি জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সভায় উপস্থিত ভুক্তভোগী ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে মণ্ডপের চারপাশের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমাগম সামলানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা। সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন যে, ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ যেন কোনোভাবেই কোনো ধরনের গুজব বা বিশৃঙ্খলার কারণে ম্লান না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা মণ্ডপগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের সাথে দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে সরকারি চাল বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আয়োজকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল-মামুন স্পষ্ট করেছেন যে, পূজা চলাকালীন পুরো এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হবে এবং যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং কোনো ধরনের গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার সুযোগ দেওয়া হবে না। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. আবিরুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি ডা. ভীষ্মদেব মন্ডলসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত থেকে স্ব স্ব দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দুর্গাপূজাকে কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শান্তি রক্ষায় দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সবশেষে, মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও আনন্দঘন শারদীয় উৎসব উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এই সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে আসন্ন দুর্গাপূজায় স্থানীয় পর্যায়ে কোনোরূপ বিশৃঙ্খলা ছাড়াই উৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উৎসবের দিনগুলোতে মাঠ পর্যায়ের নজরদারি এবং প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে, মুকসুদপুরের প্রশাসন এবার উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, যা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। উৎসবের এই নিরাপত্তা কাঠামো ভবিষ্যতে স্থানীয় অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনেও একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।