বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ অবদান ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ সিরাজগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শরীফুল ইসলাম। জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম।
শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা পান তিনি। এর আগেও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬-এ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা বিভাগে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন তিনি। পাশাপাশি ২০১৬ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ নীতিমালায় কারিগরি শিক্ষায় উপজেলা, জেলা ও রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষের মর্যাদা অর্জন করেন।
শিক্ষায় অনন্য ভূমিকার জন্য ২০১৯ সালে 'জ্ঞান তাপস ডাঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড', ২০২২ সালে 'বাংলাদেশ-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ অ্যাওয়ার্ড', ২০২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক 'দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড' এবং স্থানীয় দৈনিক কলম সৈনিক বর্ষসেরা শিক্ষক সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। ২০১৯ সালে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমী (নায়েম)-এ অনুষ্ঠিত ১৩৬তম শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণে সারা দেশের অধ্যক্ষদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করে কারিগরি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ২০০১ সালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বি.এম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন অধ্যক্ষ শরীফুল ইসলাম। শিক্ষার গুণগত মান বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে সুন্দর পরিবেশ, অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলী, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে কলেজটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিগরি শিক্ষার কর্মসংস্থান ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে পিএইচডি গবেষণারত আছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতি সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া তিনি শতলেখা শতলিপি গ্রন্থের লেখক এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
অনুভূতি প্রকাশ করে অধ্যক্ষ মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সুশাসনের কারণেই কলেজটি আজ আদর্শ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এই অর্জন পুরো প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বের এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার মান উন্নয়নে আরও বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।