মোংলায় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে: ৩৫ মণ্ডপে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ শৈল্পিক কর্মযজ্ঞ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মোংলায় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে: ৩৫ মণ্ডপে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ শৈল্পিক কর্মযজ্ঞ..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
মোংলায় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে: ৩৫ মণ্ডপে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ শৈল্পিক কর্মযজ্ঞ..
মোংলায় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে: ৩৫ মণ্ডপে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ শৈল্পিক কর্মযজ্ঞ..
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের মোংলায় আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ৩৫টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বৈরী আবহাওয়া ও উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিকে ছাপিয়ে শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।..

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার ৩৫টি পূজামণ্ডপে এখন প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কর্মযজ্ঞ চলছে। মহালয়ার আগমনি বার্তার আগেই উপকূলীয় এই জনপদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে ঘিরে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। উপজেলার পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন মণ্ডপে মৃৎশিল্পীরা বাঁশ, কাঠ, খড় ও এঁটেল মাটির সংমিশ্রণে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এই শৈল্পিক কাজের কাঠামো নির্মাণ শেষে এখন চলছে মাটির প্রলেপ শুকানো ও সূক্ষ্ম কারুকাজের ধাপ। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে মাঝপথে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও, বর্তমানে রোদ অনুকূলে থাকায় শিল্পীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছেন, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

তবে শিল্পীদের এই কর্মযজ্ঞের আড়ালে উঠে এসেছে উপকরণের উচ্চমূল্য ও লাভের স্বল্পতার কঠোর বাস্তবতা। মৃৎশিল্পীরা জানিয়েছেন, বাঁশ, কাঠ, সুতলি ও এঁটেল মাটির বাজারদর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। একজন অভিজ্ঞ শিল্পী জানান, যে প্রতিমা ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তার পেছনেই ৩০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের তুলনায় প্রকৃত মুনাফা অত্যন্ত নগণ্য। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই প্রভাব মৃৎশিল্পের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে, যার ফলে অনেক কারিগরই এখন পেশা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। তা সত্ত্বেও শিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমার প্রতিটি অবয়বে প্রাণসঞ্চারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে উৎসবের আমেজে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে।

অন্যদিকে, পূজা উদ্‌যাপন কমিটিগুলো মণ্ডপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মোংলা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক গোপাল কৃষ্ণ (কালু) জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক ও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং ভক্তদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাতে মোংলার এই ৩৫টি মণ্ডপে কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই ধর্মীয় রীতিনীতি ও আনুষ্ঠানিকতা পালিত হতে পারে।

আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আবহ শুরু হবে এবং ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে মূল উৎসবের সূচনা ঘটবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে পাঁচ দিনের এই দুর্গোৎসবের। ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও আবহাওয়া সংক্রান্ত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে মোংলার মৃৎশিল্পীদের এই নিরলস পরিশ্রম স্থানীয় অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। উৎসবের এই দিনগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা কমিটির সমন্বিত উদ্যোগই কেবল উৎসবটিকে সার্থক ও নিরাপদ করতে পারে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator