দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুর সদর উপজেলার মুরাদপুর আনসার ও ভিডিপি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে প্রায় ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাতে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় আইনগতভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করায় সমিতির সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে সমিতির নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মুরাদপুর আনসার ও ভিডিপি সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সৈয়দ আলী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মুরাদপুর আনসার ও ভিডিপি সমিতি সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সঞ্চয় ও ঋণদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেন দায়িত্ব পালনকালে নিজ নামে ১১ লাখ ৭৭ হাজার ১০০ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩০০ টাকা ঋণ উত্তোলন করেন। সব মিলিয়ে ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৪০০ টাকা ঋণ নেওয়ার পর কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ করেন সৈয়দ আলী।
তিনি আরও বলেন, সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে ইলিয়াস হোসেনকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। তবে প্রাপক নোটিশ গ্রহণ না করায় ডাকপিয়ন সেটি ফেরত দেন। পরে সমিতির পক্ষে বাদী হয়ে সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত, সদর, দিনাজপুরে ১৫৭৯সি/২৫ (সদর) নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই দিনাজপুরে পাঠানো হয়।
সৈয়দ আলীর অভিযোগ, ওই মামলা থেকে রক্ষা পেতে এবং সমিতির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। ইলিয়াস হোসেনের শ্বশুর এবং মামলার দ্বিতীয় আসামি আরিজুন নাহারের বয়োবৃদ্ধ পিতা মনসুর আলীর মৃত্যুর বিষয়কে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদানের অভিযোগ এনে গত ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত, সদর, দিনাজপুরে সিআর মামলা নং ৫৫৩/২০২৬ দায়ের করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আলী দাবি করেন, পিবিআই দিনাজপুর গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে পিবিআই/দিনাজপুর/১৩৯৬ নম্বর স্মারকে যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট। তবে তারা কোনো ব্যক্তিকে সমিতির অর্থ আদায়ের জন্য হুমকি দেননি দাবি করে তিনি বলেন, সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিরুদ্ধে তারা আইনানুগভাবেই অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন। তিনি অবিলম্বে উদ্দেশ্যমূলক মামলা ও পক্ষপাতমূলক তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাহার, সমিতির গচ্ছিত অর্থ ফেরত এবং হয়রানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুরাদপুর আনসার ও ভিডিপি সমিতির সহ-সম্পাদক মুরসালিন শাহ, কোষাধ্যক্ষ মো. মোসাদ্দেক হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ও হিসাবরক্ষক মো. খায়রুল হক উপস্থিত ছিলেন।