তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিএনপি নেতা মির্জা মোস্তফা জামানের খোলা চিঠি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিএনপি নেতা মির্জা মোস্তফা জামানের খোলা চিঠি..

Juwel Hossain avatar   
Juwel Hossain
তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিএনপি নেতা মির্জা মোস্তফা জামানের খোলা চিঠি..
তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিএনপি নেতা মির্জা মোস্তফা জামানের খোলা চিঠি..
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক খোলা চিঠিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ৬ দফা সুস্পষ্ট দাবি উত্থাপন করেন..

দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ কমিটির অভাব, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং চরম সমন্বয়হীনতার মধ্য দিয়ে চলছে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম। এ অবস্থায় জেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও সংকট নিরসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান।

কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ১৯৯১ সালের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামানের পুত্র মির্জা মোস্তফা জামান কেন্দ্রীয় মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের মাধ্যমে এ আবেদন পৌঁছে দেন।

চিঠিতে বলা হয়, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত অচলাবস্থায় পড়েছে। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ১৮ সদস্যের যে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল, দীর্ঘ দুই বছরেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। অন্যদিকে দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি দিয়ে দল পরিচালিত হওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা, হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই জেলায় দুটি কমিটি বিদ্যমান থাকাকে সারাদেশে বিএনপির রাজনীতিতে একটি নজিরবিহীন ও ক্ষতিকর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

খোলা চিঠিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ৬ দফা সুস্পষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়:

* সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা।
* প্রয়োজনবোধে বর্তমান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বিলুপ্ত করে একটি নতুন ও কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করা।
* কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রতা না করে সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা।
* দলীয় প্রয়োজন বিবেচনায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সরাসরি নতুন আহ্বায়ক বা জেলা কমিটি গঠন করা।
* ত্যাগী, পরীক্ষিত, সৎ, মেধাবী, সক্রিয় ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘ক্লিন ইমেজ’-এর নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।
* ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত রেখে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া সরাসরি মনিটরিং করা।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলন-সংগ্রামে সিরাজগঞ্জের নেতাকর্মীরা সব সময় রাজপথে থেকে জেল-জুলুম ও ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। তবে বর্তমানে একক নেতৃত্ব ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক আধিপত্যের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।

খোলা চিঠির শেষাংশে মির্জা মোস্তফা জামান জানান, তিনি ব্যক্তিগত কোনো পদ-পদবির প্রত্যাশায় নয়, বরং সিরাজগঞ্জে বিএনপিকে গতিশীল, ঐক্যবদ্ধ ও পুনরুজ্জীবিত করতেই প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা এখন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপিকে পুনর্গঠনে শীর্ষ নেতৃত্বের একটি কার্যকর ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator