দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ কমিটির অভাব, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং চরম সমন্বয়হীনতার মধ্য দিয়ে চলছে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম। এ অবস্থায় জেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও সংকট নিরসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান।
কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ১৯৯১ সালের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামানের পুত্র মির্জা মোস্তফা জামান কেন্দ্রীয় মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের মাধ্যমে এ আবেদন পৌঁছে দেন।
চিঠিতে বলা হয়, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত অচলাবস্থায় পড়েছে। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ১৮ সদস্যের যে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল, দীর্ঘ দুই বছরেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। অন্যদিকে দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি দিয়ে দল পরিচালিত হওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা, হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই জেলায় দুটি কমিটি বিদ্যমান থাকাকে সারাদেশে বিএনপির রাজনীতিতে একটি নজিরবিহীন ও ক্ষতিকর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
খোলা চিঠিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ৬ দফা সুস্পষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়:
* সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা।
* প্রয়োজনবোধে বর্তমান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বিলুপ্ত করে একটি নতুন ও কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করা।
* কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রতা না করে সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা।
* দলীয় প্রয়োজন বিবেচনায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সরাসরি নতুন আহ্বায়ক বা জেলা কমিটি গঠন করা।
* ত্যাগী, পরীক্ষিত, সৎ, মেধাবী, সক্রিয় ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘ক্লিন ইমেজ’-এর নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।
* ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত রেখে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া সরাসরি মনিটরিং করা।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলন-সংগ্রামে সিরাজগঞ্জের নেতাকর্মীরা সব সময় রাজপথে থেকে জেল-জুলুম ও ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। তবে বর্তমানে একক নেতৃত্ব ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক আধিপত্যের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
খোলা চিঠির শেষাংশে মির্জা মোস্তফা জামান জানান, তিনি ব্যক্তিগত কোনো পদ-পদবির প্রত্যাশায় নয়, বরং সিরাজগঞ্জে বিএনপিকে গতিশীল, ঐক্যবদ্ধ ও পুনরুজ্জীবিত করতেই প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা এখন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপিকে পুনর্গঠনে শীর্ষ নেতৃত্বের একটি কার্যকর ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।