মহেশপুরে ১৮ মাস নিখোঁজ কিশোরী অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদঘানট.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মহেশপুরে ১৮ মাস নিখোঁজ কিশোরী অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদঘানট..

Sumon Kumar avatar   
Sumon Kumar
মহেশপুরে ১৮ মাস নিখোঁজ কিশোরী অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদঘানট..
মহেশপুরে ১৮ মাস নিখোঁজ কিশোরী অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদঘানট..
ছবি: সংগৃহীত

****

মহেশপুর ১৮ মাস পর নিখোঁজ কিশোরী অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদঘাটন ।

সুমন কুমার বিশ্বাস 

ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি 

 

গত ইং ১৩ই মার্চ, ২০২৫  তারিখে মোছাঃ নিঝুম খাতুন (১৭) নামক এক কিশোরী  ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানাধীন ফতেপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন। 

হত দরিদ্র তার মা মোছাঃ তাসলিমা খাতুন বাদী হয়ে এই সংক্রান্তে মহেশপুর থানায় গত ইং ০৮/০৪/২০২৫ তারিখে সাধারণ ডায়েরী করেন। পরবর্তীতে ভিকটিম উদ্ধার না হওয়ায় ভিকটিমের মা একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। 

দীর্ঘ ১৮ মাস অতিবাহিত হলেও কিশোরী নিঝুমের সন্ধান না পাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করার জন্য ঝিনাইদহ জেলার সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের চৌকস টিম কাজ শুরু করে। 

তদন্তের এক পর্যায়ে আসামী মাশরিকুল রহমান জিম (২৩), পিতা- মোঃ কামাল হোসেন, সাং- রাখালভোগা, থানা- মহেশপুর, জেলা- ঝিনাইদহ’কে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল কর্তৃক আসামীকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জিম নিঝুমকে অপহরণের কথা অকপটে স্বীকার করে।

আসামী মাশরিকুল রহমান জিম জানায়, ভিকটিম নিঝুমের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১৩ই মার্চ, ২০২৫ তারিখে বেড়ানোর কথা বলে কিশোরী নিঝুম’কে সে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানাধীন পাকশী রেল স্টেশনে নিয়ে যায়। সেখানে ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে তারা জনশূন্য পাকশী রেল লাইনের উপরে প্ল্যাটফর্মে বসে সময় কাটায়। এসময় ভিকটিম নিঝুম আসামী জিমকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে আসামী ও ভিকটিমের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় আসামী জিম রাগান্বিত হয়ে ভিকটিমকে সজোরে থাপ্পড় মারে। তখন নিঝুম অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। সেখান থেকে আসামী ভিকটিম নিঝুম’কে টেনে হিঁচড়ে রেল লাইনের নিচে নির্জন জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যায়। ভিকটিমের পরিহিত ওড়না দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে মাথার উপর পা দিয়ে সজোরে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে আসামী জিম লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে জঙ্গলের পাশে নির্জন স্থানে ডেডবডি ফেলে রেখেপ ট্রেনযোগে পালিয়ে যায়। 

আসামী মাশরিকুল রহমান জিম এর প্রদত্ত তথ্য মোতাবেক সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম আসামীকে সাথে নিয়ে ঈশ্বরদী থানার পাকশী রেল স্টেশন এলাকায় যায় এবং ঘটনাস্থল সনাক্ত করে। তদন্তের এক পর্যায়ে টিমের সদস্যগণ জানতে পারে যে, ভিকটিম নিঝুমের অর্ধগলিত মৃত্যুদেহ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ গত ১৭ই মার্চ, ২০২৫ তারিখ দুপুরে অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে উদ্ধার করে। এ সংক্রান্তে ঈশ্বরদী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। ঐ সময় মৃতদেহের পরিচয় সনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে উক্ত লাশটি পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় কবরস্থ করা হয়। 

এরপর ইনভেস্টিগেশন টিম সিআইডির ক্রাইম সিনের এক্সপার্টগণের আর্কাইভে সংরক্ষিত অর্ধগলিত কিশোরীর ছবি সংগ্রহ করে। ছবিতে পরিহিত পোশাক দেখে আসামী জিম নিঝুমের ডেডবডি সন্দেহাতীতভাবে সনাক্ত করে। 

অদ্য ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আসামি 
জিম কিশোরী নিঝুম হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ননা দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
 মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator