মোংলায় ১২০ পিস ইয়াবাসহ আন্তঃজেলা মাদক কারবারি চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মোংলায় ১২০ পিস ইয়াবাসহ আন্তঃজেলা মাদক কারবারি চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
মোংলায় ১২০ পিস ইয়াবাসহ আন্তঃজেলা মাদক কারবারি চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার..
মোংলায় ১২০ পিস ইয়াবাসহ আন্তঃজেলা মাদক কারবারি চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার..
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের মোংলায় অভিযান চালিয়ে ১২০ পিস ইয়াবাসহ এক নারীসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।..

বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ টিম  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাতে মোংলা পোর্ট পৌরসভার কৌশলগত ও ব্যস্ততম ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২০ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন জন কুখ্যাত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই আকস্মিক অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোংলা ও এর আশপাশের এলাকায় সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেটের একটি বড় চালান আটক করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মোংলা বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে মাদকের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা চালিয়ে আসছিল এবং এই ফেরিঘাট এলাকাটিকে তারা মাদক পরিবহনের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। গোয়েন্দা পুলিশের এই সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের আরেকটি বড় সাফল্যের চিত্র উন্মোচিত হলো, যা স্থানীয় সচেতন মহলে সাময়িক স্বস্তি নিয়ে এলেও মাদকের শেকড় কতদূর বিস্তৃত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় বিশ্লেষণ করলে এই মাদক চক্রের আন্তঃজেলা ও বহুমাত্রিক নেটওয়ার্কের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন নোয়াখালীর সেনবাগ থানার বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত রহমতুল্লাহ ফোরম্যানের পুত্র কামাল হাওলাদার (৪০), মোংলার বৈদ্যমারী এলাকার আলী আকবর জমাদ্দারের পুত্র মো. নুর আলম জমাদ্দার (২২) এবং নীলফামারী সদর উপজেলার পশ্চিম পুকুরপাড়া গ্রামের আইনুল হকের কন্যা ও বর্তমানে মোংলা পোর্ট পৌরসভার টিএ ফারুক স্কুলের পাশের একটি ভাসমান বসতির বাসিন্দা আঞ্জুমা আক্তার (২৫)। বিভিন্ন জেলা থেকে এসে মোংলা বন্দরের মতো একটি সংবেদনশীল ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থায়ী বা ভাসমান ঠিকানায় বসবাস করে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা নজরদারির ফলে অবশেষে এই চক্রের মূল অপারেটররা তাদের নারী সহযোগীসহ পুলিশের জালে ধরা পড়ে, যা প্রমাণ করে যে অপরাধীরা এখন আইনকে ফাঁকি দিতে অভিনব কৌশল এবং ভাসমান আবাসের আড়ালে নিজেদের নিরাপদ আস্তানা গড়ে তুলছে।

এই চাঞ্চল্যকর আটকের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত ১২০ পিস ইয়াবার উৎস এবং এর পেছনে জড়িত মূল গডফাদারদের চিহ্নিত করতে রিমান্ডের আবেদনসহ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে। তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন যে, কেবল মাঝেমধ্যে দু-একজন খুচরা বা মাঝারি মানের কারবারি আটক করলেই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব নয়, যদি না এর পেছনের মূল পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা যায়। জেলা গোয়েন্দা শাখার পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও, মোংলা বন্দর এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের এই দৌরাত্ম্য বন্ধে বন্দর ও পৌর কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি এবং নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের এই ধরণের আন্তঃজেলা সংযোগ কেবল স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই ঘটাচ্ছে না, বরং মোংলার মতো একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থলের সামাজিক নিরাপত্তাকেও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

মোংলায় ঘটে যাওয়া এই মাদক আটকের ঘটনাটি উপকূলীয় অঞ্চলের সার্বিক অপরাধ চিত্রের একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বন্দর এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ভাসমান ও অস্থায়ী বসতিগুলো যে অপরাধের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে, তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আরও একবার প্রমাণিত হলো। ভবিষ্যতে এ ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করতে না পারলে মোংলা বন্দর এলাকা দেশের অন্যতম প্রধান মাদক ট্রানজিট পয়েন্টে রূপ নিতে পারে, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। তাই পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, যাতে আগামী দিনে বন্দরনগরী মোংলাকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator