আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৩ নম্বর স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নকে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক প্রশাসনিক মডেলে রূপান্তর করার লক্ষ্য নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ এরশাদ সরদার। স্থানীয় প্রতিনিধি ওমর ফারুকের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এক নির্বাচনী বার্তায় তিনি নিজেকে এলাকার সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। প্রার্থীর মতে, ইউনিয়ন পরিষদ কোনো রাজনৈতিক বা ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, এটি সম্পূর্ণভাবে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার প্রতিষ্ঠান। বর্তমান স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ হরহামেশা শোনা যায়, তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনমুখী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলাই তার প্রার্থিতার মূল ভিত্তি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই ধরনের স্পষ্ট ঘোষণা তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার জন্ম দিলেও এর বাস্তবায়ন কতটা সুদূরপ্রসারী হবে, তা সময়ই বলে দেবে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই ধরনের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা ও পূর্বসূরি কাজের মূল্যায়ন নিয়ে ভোটারদের মাঝে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
মোহাম্মদ এরশাদ সরদারের ঘোষিত পাঁচ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে মূলত স্থানীয় সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ভোগান্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বঞ্চনার চিত্র নিখুঁতভাবে উঠে এসেছে, যার গভীর বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে তিনি গ্রামীণ জনপদের রুট ডাইনামিক্স এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছেন। তার ইশতেহারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ইউনিয়ন পরিষদের সেবা প্রদানে সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় না করার কঠোর অঙ্গীকার, যা সাধারণ মানুষের আর্থিক শোষণ বন্ধে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, ইউনিয়ন পরিষদ এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম প্রচলিত আইন, বিধি ও সংবিধানের কঠোর আলোকে পরিচালনার কথা বলে তিনি মূলত স্বৈরাচারী বা একক সিদ্ধান্তে পরিষদ পরিচালনার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার বার্তা দিয়েছেন। পরিষদের দৃশ্যমান স্থানে বিভিন্ন সেবার সরকারি ফি’র তালিকা প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা সেবাপ্রার্থীদের অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অতীতে চলা বিভিন্ন অনিয়ম রোধ করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি, সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত অংশ অর্থাৎ অসচ্ছল নাগরিকরা যাতে সরকারি ফি প্রদানে অপারগ হলে লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে আইনি নিয়মে সহায়তা পান এবং অসুস্থ, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী নাগরিকরা পরিষদে আসার কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়ে ঘরে বসেই সেবা পান, সেই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মূলত দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও সেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, যা স্থানীয় ভোটারদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রার্থীর এই জনমুখী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির বিপরীতে ইউনিয়ন পরিষদের সামগ্রিক কার্যক্রমে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অতীতে গ্রামীণ জনপদের অনেক ইউনিয়ন পরিষদেই সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ দালাল চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হয়েছেন এবং পরিষদের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতার অভাবে সাধারণ নাগরিকরা তাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে মোহাম্মদ এরশাদ সরদার তার ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পূর্ণ দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীমুক্ত রাখার যে দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য কেবল সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি এবং স্থানীয় তরুণ ও সচেতন সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ। স্থানীয় ভোটার এবং সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের মতে, প্রার্থীরা নির্বাচনের আগে নানা রকম আকর্ষণীয় ইশতেহার বা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পর তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই শৈথিল্য দেখা যায়। তাই এই ইশতেহারটি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে তা কঠোরভাবে কার্যকর করতে প্রার্থীর রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং নির্বাচিত হওয়ার পরবর্তী সময়ে জনগণের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, যদি এই প্রতিশ্রুতির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়, তবে এটি শুধু রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন নয়, বরং আশপাশের অন্যান্য ইউনিয়নের জন্যও একটি অনুকরণীয় প্রশাসনিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, মোহাম্মদ এরশাদ সরদারের চেয়ারম্যান পদে এই প্রার্থিতা ঘোষণা এবং তার সুনির্দিষ্ট পাঁচ দফা ইশতেহার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী সমীকরণকে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব স্থানীয় রাজনীতি ও জনসেবার মানে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষমতা ভোগের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত অর্থে জনগণের সেবক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করার যে প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা গ্রামীণ রাজনীতির প্রচলিত ধারায় একটি গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় ভোটাররা এখন কেবল আশ্বাসের বাণী শুনতে নারাজ, তারা এমন একজন নেতৃত্ব দেখতে চান যিনি কথা ও কাজের মিল রেখে ইউনিয়ন পরিষদকে জনবান্ধব রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এই ধরনের কল্যাণমুখী এজেন্ডা বা ইশতেহারের উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং যোগ্য ও সৎ প্রার্থী নির্বাচনে জোরালো ভূমিকা পালন করছে। দিনশেষে, এই প্রতিশ্রুতির ওপর ভর করেই ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর প্রার্থী তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলো কতটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করবে এই এলাকার আগামী দিনের প্রশাসনিক সুশাসন ও উন্নয়নের রূপরেখা।