ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা ও রংপুর ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম গফফার সড়কটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতা এবং অপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে সড়কটির অন্তত আটটি স্থানে জলাবদ্ধতা ও বিশাল আকৃতির গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে মরণফাঁদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মূলত নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকার ফলে সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে উপজেলা পরিষদ, থানা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষের পাশাপাশি ফুলতলা, অভয়নগর, কেশবপুর ও মনিরামপুরের মানুষের আন্তঃউপজেলা যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে এটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সড়কের এই বেহাল দশা জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে এবং যাতায়াত ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সড়কটির করুণ পরিণতির কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকরা প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। ভ্যানচালক নজরুল সানা, শফিকুল ইসলাম ও আলামিন সরদারসহ অন্যান্য পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, গত দুই-তিন বছর ধরে সড়কটির এমন দুরবস্থা চললেও কোনো কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্যমতে, বছরের প্রায় ছয় মাস সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে ডুবে থাকে, যার ফলে খানাখন্দে পড়ে প্রতিনিয়ত ভ্যান ও ইজিবাইকের যন্ত্রপাতি বিকল হচ্ছে। উপার্জিত আয়ের একটি বড় অংশ গাড়ি মেরামতেই ব্যয় করতে হচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মানকে নিম্নমুখী করছে। এছাড়া যাত্রী নিয়ে ইজিবাইক উল্টে যাওয়ার মতো ঘটনা এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার বোধ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সরকারি চাকরিজীবী পির আলীর মতে, অফিস যাতায়াতের মতো দৈনন্দিন কাজে এই সড়ক ব্যবহার করা এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সড়কটির এই নাজুক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল হুদা জানান, গফফার সড়কের উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় বাজেট প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে সড়কটি উঁচু করে সংস্কার করা হবে যাতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার কারণে আর কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের এই আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের প্রশ্ন, বাজেটের দোহাই দিয়ে আর কতদিন এই মরণফাঁদ ধরে মানুষ অমানবিক জীবনযাপন করবে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তোলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশ্বাস যেন কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তব রূপ পায়, তা নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয়দের একমাত্র প্রত্যাশা।
গফফার সড়কের বর্তমান চিত্রটি কেবল একটি রাস্তার ভাঙন নয়, বরং এটি স্থানীয় যোগাযোগ অবকাঠামোর চরম অবহেলার এক প্রতিচ্ছবি। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায়, এই মরণফাঁদ কেবল যানমালের ক্ষতিই বাড়াবে না, বরং জনমনে প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ ও আস্থার সংকট আরও প্রকট করে তুলবে, যা সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করবে।