টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ৭ জনের জরিমানা, ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায়.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ৭ জনের জরিমানা, ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায়..

Mehedi Hasan avatar   
Mehedi Hasan
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ৭ জনের জরিমানা, ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায়..
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ৭ জনের জরিমানা, ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায়..
ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদী থেকে অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাত ব্যক্তিকে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছে।..

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা নদীতে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সোমবার কঠোর অবস্থানে নামে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এই সাত ব্যক্তিকে আটক করে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়, যেখানে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার আক্তার হোসেনকে এক লাখ টাকা এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, বরিশালের বানারিপাড়া ও উজিরপুর, বরগুনা সদর ও পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার আরও ছয় ব্যক্তিকে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক অনুমোদনহীনভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালীন নদী তীরবর্তী স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন যে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘ দিন ধরে এই অসাধু চক্রটি যমুনা নদীর বুক চিরে বালু উত্তোলন করে আসছিল, যার ফলে নদী ভাঙনের ঝুঁকি তীব্রতর হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, যমুনার নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলো থেকে এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার পাশাপাশি তীরবর্তী কৃষি জমি ও বসতভিটা ক্রমাগত বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অভিযানে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, কোনো প্রকার বৈধ অনুমতি ছাড়াই তারা দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন ও তা বিক্রির কাজ চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটটি স্থানীয় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতের অন্ধকারে বা দুর্গম এলাকায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল, যা সাধারণ মানুষের জনজীবনের নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান জানান, জনস্বার্থ রক্ষা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী যথাযথ লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযানে ভূঞাপুর থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং গ্রাম পুলিশের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, যারা দীর্ঘ সময় ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্রটিকে নজরদারিতে রেখেছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, যমুনা নদীর পরিবেশ রক্ষায় এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের আইন অমান্যকারী চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হবে এবং প্রয়োজনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই অভিযানের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের মাঝে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হলেও, পরিবেশবাদীদের মতে, শুধুমাত্র জরিমানা করে এই সংকট স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। যমুনা নদী থেকে এভাবে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে অদূর ভবিষ্যতে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে, যা টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোর অবকাঠামো ও কৃষিখাতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত নয়, বরং এই অসাধু সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হলে তবেই নদী ভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator