ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘের কান্দা এলাকার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানায় গত ২১ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার এক বিশেষ দোয়া মাহফিল ও দুপুরের খাবার বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। জুমার নামাজের পর আয়োজিত এই মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। দুবাই প্রবাসী ফেনীর বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীর আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাদে কল্পা নিবাসী শাহরিয়ার ফারদিনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য এই কল্যাণমূলক উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়। মূলত ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখা এবং অসহায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই আয়োজনের আয়োজন করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এ ধরনের কার্যক্রম বর্তমান সময়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেক সময় এতিমখানার শিক্ষা ও আবাসন কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যেখানে প্রবাসীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা তাদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এই সংস্কৃতি যদি সমাজের সামর্থ্যবানরা নিয়মিত চর্চা করেন, তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কেবল খাবার বিতরণ নয় বরং দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পাঠদানের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন যে, দেশের এতিমখানাসমূহের পরিচালনায় সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ের মানবিক সহযোগিতা অপরিহার্য। আয়োজক প্রতিনিধি শাহরিয়ার ফারদিন জানিয়েছেন, প্রবাসে থেকেও নিজ দেশের অসহায় ও এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়াতে পারা তাদের জন্য নৈতিক দায়িত্বের অংশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত নজরদারি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে প্রকৃত এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীরাই এই সুবিধাগুলো পায়। ভবিষ্যতে এতিমখানার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও ধর্মীয় শিক্ষায় আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে আরও বড় পরিসরে তহবিল সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাও এখানে আলোচিত হয়েছে।
পরিশেষে, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এই ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তা কেবল এতিম শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিক সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। একই সাথে, প্রবাসীদের এমন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে অন্যান্য বিত্তবানদের মধ্যেও মানবিক অনুপ্রেরণা জোগাবে, যা ভবিষ্যতে পরিবহন ও অন্যান্য সামাজিক খাতের উন্নয়নের মতোই শিক্ষা খাতের ভিত মজবুত করবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, বাঘের কান্দা মাদ্রাসার এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও এতিমদের কল্যাণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করা প্রয়োজন।