শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:
জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয় মোকাবিলায় এবং উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সাতক্ষীরার আশাশুনির শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীরা। আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কিংবা বৈদেশিক অনুদানের আশায় বসে না থেকে নিজেদের বাসযোগ্য পরিবেশ রক্ষায় নিজ উদ্যোগেই মাঠে নেমেছে তারা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ ও রোপণ করা হয়েছে ৫ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট '২৬) দুপুরে আশাশুনি উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) উদ্যোগে এ চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ইএসডিও-এর প্রকল্প পরিচালক শামসুল হক মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম, আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম, আশাশুনি সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজহারুল ইসলাম মুকুলসহ স্থানীয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, 'উপকূলে যে হারে উষ্ণায়ন ও লবণাক্ততা বাড়ছে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে এ অঞ্চল কঠিন হুমকির মুখে পড়বে। জলবায়ু সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ইতিবাচক প্রয়াসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও সুরক্ষা দেওয়া হবে।'
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া উদ্যোগী শিক্ষার্থী রাকিব নুর, রাকিব আনোয়ার, আনন ও রফিকুল ইসলাম জানায়, 'আন্তর্জাতিক বৈশ্বিক তহবিলের আশায় সময় নষ্ট না করে নিজস্ব উদ্যোগে সবুজ বলয় গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। উপকূলীয় এলাকায় অক্সিজেনের জোগান বাড়ানো ও লোনা পানির প্রভাব কমাতে এই ৫ হাজার গাছের চারা তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
এ উদ্যোগটি শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, দেশব্যাপী একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকল্পগুলোকে আরও সম্প্রসারণ ও অন্যান্য অঞ্চলেও বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের জলবায়ু সুরক্ষায় একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সাতক্ষীরার এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে, যা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। শিশু-কিশোরদের এই প্রচেষ্টা শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করবে।