রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে..
রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ক্ষেত্রবাজার এলাকায় সুনির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের অভাবে জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার ভাগাড়, যা তীব্র দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির..

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৮নং সরফভাটা ইউনিয়নের ক্ষেত্রবাজার এলাকাটি বর্তমানে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে এক ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। বাজারের বাণিজ্যিক বর্জ্যসহ গরু জবাইয়ের অবশিষ্টাংশ এবং রক্ত প্রতিনিয়ত উন্মুক্ত স্থানে ফেলার ফলে পুরো এলাকায় এক অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ বিকল্প কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাধ্য হয়েই রাস্তার পাশে বা খোলা জমিতে ময়লা ফেলছেন, যা সময়ের ব্যবধানে বিশাল ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টিপাতের সময় এই বর্জ্য ধুয়ে পার্শ্ববর্তী নালা ও নিচু কৃষি জমিতে ছড়িয়ে পড়ায় পানি ও মাটি উভয়ই মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনা কেবল পরিবেশের ক্ষতি করছে না, বরং স্থানীয় জনজীবনকে বিষিয়ে তুলেছে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এক দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া বা স্থায়ী ডাম্পিং জোন তৈরির উদ্যোগ না নেওয়ায় এই সংকট দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে।

এই ময়লার ভাগাড়ের অতি সন্নিকটেই অবস্থিত সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, মেহেরিয়া মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা এবং ইউনিয়ন হেলথ ক্লিনিকসহ দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, মাদ্রাসার শিশু এবং রোগী এই দূষিত বাতাসের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পচনশীল বর্জ্য থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধে দম নেওয়া দায় হয়ে পড়েছে এবং মশা-মাছির উপদ্রব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে চর্মরোগসহ বিভিন্ন বায়ুবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরফভাটা ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল আবসার জানান, ঐতিহ্যগতভাবে এই রাস্তাটি অত্যন্ত জনবহুল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ময়লার স্তূপের কারণে চলাচল করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, বাপ-দাদার আমলের এই জনপদ আগে এতটা দূষণমুক্ত ছিল, কিন্তু বর্তমানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই ময়লার স্তূপ অপসারণ করে এলাকাটিকে দূষণমুক্ত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোথাও ময়লা না ফেলা হয়, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, জনবসতির এত কাছে এভাবে বর্জ্য উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া এবং টাইফয়েডের মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে হেলথ ক্লিনিকের পাশে এই বর্জ্য স্তূপ থাকাটা স্বাস্থ্যবিধির চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের ওপর দায়ভার চাপিয়ে এলাকাবাসী বলছেন, বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অতি দ্রুত একটি নির্দিষ্ট এলাকা নির্বাচন করে বর্জ্য অপসারণের স্থায়ী ডাম্পিং জোন তৈরি করা এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত হস্তক্ষেপ না করা হলে এই এলাকায় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, যা স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মানকে আরও নিম্নমুখী করে তুলবে।

রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটার এই বর্জ্য সমস্যা কেবল বাজারের পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ইস্যু। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে এই এলাকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং শিশুদের শারীরিক বিকাশ ও শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে যাতে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য একটি আধুনিক ও কার্যকর সিস্টেম চালু করা যায়। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই ময়লার ভাগাড় অপসারণের কোনো বিকল্প নেই। সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে, প্রশাসন যদি এখনই কঠোর অবস্থানে না যায়, তবে এই দূষণ দীর্ঘমেয়াদে পুরো অঞ্চলের জন্য একটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator