সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য টেকসই জীবিকার উদ্যোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য টেকসই জীবিকার উদ্যোগ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য টেকসই জীবিকার উদ্যোগ..
সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য টেকসই জীবিকার উদ্যোগ..
ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনের বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আইএফএসডি ফাউন্ডেশন টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করছে..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) আইএফএসডি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে 'গ্রোওয়েল প্রকল্প'-এর আওতায় আইএফএসডি ভিলেজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের পুনর্বাসন এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সুন্দরবনসংলগ্ন গাবুরা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ মাছ ধরা, কাঠ সংগ্রহ এবং মধু আহরণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশার ওপর নির্ভরশীল। জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত সুন্দরবনে প্রবেশ করতে গিয়ে অনেকেই বাঘের আক্রমণের শিকার হন, যা তাদের জীবন-জীবিকা বিপন্ন করে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে তিনটি পরিবারকে বিকল্প জীবিকা প্রদানের লক্ষ্যে 'গ্রোওয়েল প্রকল্প'-এর আওতায় তিনটি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে। মো. সিদ্দিক গাজীর জন্য 'মেসার্স সিয়াম এন্টারপ্রাইজ', মো. মোবারক গাজীর জন্য 'আরিশা এন্টারপ্রাইজ' এবং মো. আতিয়ার গাজীর জন্য 'সাজিদা স্টোর' নির্মাণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএফএসডি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারি জেনারেল মো. মেহেদী হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ফাহাদ উজ্জামান খান, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আবদুল্লাহ শাহরিয়ার বিজয়, স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা আশিকুর রহমান এবং মাছরাঙা টেলিভিশনের সাতক্ষীরা জেলা রিপোর্টার মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল।

অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই সময়ের দাবি। গ্রোওয়েল প্রকল্প সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে।

আইএফএসডি ফাউন্ডেশন ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের আরও অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে পুনর্বাসন ও বিকল্প জীবিকার আওতায় আনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কেবল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক পুনর্বাসনই নয়, সুন্দরবনের ঝুঁকিপূর্ণ পেশার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিরাপদ ও টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষগুলোর জীবনে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator