রাঙ্গুনিয়ায় ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর যুবকের আত্মহত্যা | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাঙ্গুনিয়ায় ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর যুবকের আত্মহত্যা

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
রাঙ্গুনিয়ায় ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর যুবকের আত্মহত্যা
রাঙ্গুনিয়ায় ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর যুবকের আত্মহত্যা
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক যুবক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।..

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ নীরব ইমন (২২) নামে এক যুবকের মরদেহ তার নিজ কক্ষ থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর আগে তিনি ফেসবুকে কয়েকটি আবেগঘন স্ট্যাটাস পোস্ট করেন যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে মালিরহাট সংলগ্ন সামতালুকদার বাড়িতে ইমনকে তার কক্ষে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ইমনের একাধিক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও মানসিক কষ্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য এক নারী ও তার পরিবারের প্রতি ইঙ্গিত দেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নীরব ইমন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই ইমনের বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়েছিল। উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা হয়, যেখানে ইমন ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেন।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন জানান, “ইমনের বিরুদ্ধে আগে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল, যা পরে সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে এবং ফেসবুক পোস্টসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর পারিবারিক বিরোধের জেরে ইমন বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা যায়। পরে চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ইমনের এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানসিক সংকট অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সাথে পারস্পরিক সহমর্মিতা, নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator