নাগেশ্বরী পৌর এলাকায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বজনদের হেফাজতে নিয়েছে।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাউরিভিটা গ্রামের (রিপন মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন এলাকা) বাসিন্দা মো. আতিকুর রহমানের ৬ বছর বয়সী শিশুকন্যা সুমাইয়াকে অচেতন অবস্থায় নাগেশ্বরী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সে সময় পরিবারের এক সদস্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, শিশুটি ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। কিন্তু ৬ বছরের একটি শিশুর ফাঁসিতে ঝোলার বিষয়টি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নাগেশ্বরী থানা পুলিশকে অবহিত করে।
খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং উপস্থিত পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এ সময় নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাটি। শিশুটির মা পুলিশের কাছে দাবি করেন, ফাঁসি নয়, বরং সাপের কামড়ে সুমাইয়ার মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের এমন ভিন্ন ভিন্ন এবং অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে শিশু সুমাইয়ার এই রহস্যময় মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা গুঞ্জন ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, শিশুটিকে শাসন করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত কোনো দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, যা পরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা বা প্রমাণ মেলেনি।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের পরিবারের সদস্যদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য সুমাইয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।