ভুক্তভোগী ওই সেনাকর্মকর্তার নাম আশরাফ হাসান। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীরা আশরাফ হাসানকে ঘিরে ধরে মারধর ও হট্টগোল করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ডাংধরা ইউনিয়নের একটি পরিবারের বসতবাড়ি অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহায়তা করতে নিজ উদ্যোগে একটি ছাগল কিনে দেন সাবেক সেনাকর্মকর্তা আশরাফ হাসান। শুক্রবার কাউনিয়ারচর বাজার থেকে ছাগল কিনে ফেরার পথে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী আশরাফ হাসান জানান, তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরেন। সম্প্রতি একটি সরকারি প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করার পর থেকেই অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ক্ষিপ্ত ছিলেন। এরই জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
হামলার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আশরাফ হাসান বলেন, “আমি মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে এমন লাঞ্ছনার শিকার হবো, তা কখনো ভাবিনি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা কি অপরাধ?”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য বাপ্পি মিয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিলে ত্রুটি ও অনিয়ম থাকায় সেটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, মামলার প্রস্তুতি চলছে।