অ্যারন হার্ডির দারুণ অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পিএসএল ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমি।.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অ্যারন হার্ডির দারুণ অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পিএসএল ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমি।..

Bakhtiar S. avatar   
Bakhtiar S.
অ্যারন হার্ডির দারুণ অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পিএসএল ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমি।..
অ্যারন হার্ডির দারুণ অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পিএসএল ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমি।..
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান সুপার লীগ (PSL)-এর ১১ তম আসরের চূড়ান্ত; অর্থাত ফাইনাল ম্যাচ। মুখোমুখি হয়েছিল পেশোয়ার জালমি এবং (নবাগত দল) হায়দ্রাবাদ কিংসমেন।..

(২৬ মার্চ-০৩ মে) ৩৯ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত মোট ৪৪ ম্যাচের এ আসরে অংশ নেয় ৮টি দল (আট দল এবারই প্রথম)। লীগ পর্বে ১০ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে পেশোয়ার ১ম স্থান দখল করে শেষ ৪-এ ওঠে। আর হায়দ্রাবাদ দল সমানসংখ্যক ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পেয়ে ভাগ্যের সহায়তায় (রানরেটে লাহোর ও করাচিকে পেছনে ফেলে) শেষ চারে আসে! 

কোয়ালিফায়ারে বাবর আযমের পেশোয়ার ৭০ রানে ইসলামাবাদকে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে। আর হায়দ্রাবাদ এলিমিনেটর ১-এ ৮ উইকেটে মুলতানকে এবং এলিমিনেটর ২-এ চরম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মাত্র ২ রানে ইসলামাবাদকে হারিয়ে চূড়ান্ত ম্যাচের টিকেট পায়। 

গতরাতে (৩ মে) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টসে জিতে পেশোয়ার দল প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয়। 

হায়দ্রাবাদ তাদের ইনিংসের ২য় ওভারে ১ম উইকেট হারায়। আউট হন বাঁহাতি ওপেনার মাজ সাদাক্বাত (৬ বলে ১১)। পাওয়ার প্লে-তে তারা যথেষ্ট মজবুত সংগ্রহ গড়ে। যদিও ২ উইকেট হারায় তবে ৬ ওভারে ৬৯ অবশ্যই ভাল সংগ্রহ। কিন্তু তারপর আর মাত্র ৬০ রান তুলতেই তারা বাকি ৮ উইকেট হারায়! এবং ১৮ ওভারে ১২৯ রান করতেই অলআউট হয়ে যায়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ (৫০) রান করেন বাঁহাতি সাইম আইউব। এছাড়া দলনায়ক (অস্ট্রেলিয়ান) মার্নাস ল্যাবুশেন করেন ২০ (১২) রান।  

পেশোয়ারের হয়ে (অসি রিক্রুট) অ্যারন হার্ডি ৪টি উইকেট দখল করেন ২৭ রানের বিনিময়ে। আর চার ম্যাচ খেলে (কিউইদের বিপক্ষে খেলতে) দেশে ফেরা বাংলাদেশি স্পিড-স্টার নাহিদ রানা; যাকে ফাইনালের আগে (কিউইদের সাথে খেলা চলাকালেই) পুনরায়  উড়িয়ে আনা হয়। তিনি তার প্রতি আস্থার যোগ্য প্রতিদান দিতে সমর্থ হন। কাল তার বোলিং ফিগার ছিল ৪-১-২২-২। অবশ্যই বাংলাদেশিদের জন্য এটা গর্বের বিষয়। আর টুর্নামেন্টে এ গতি তারকার মোট বোলিং বিশ্লেষণ "১৮-২-৯৮-৯"! অর্থাত, ৫ ম্যাচে মাত্র ৫.৪৪ ইকোনমিতে ৯ উইকেট! 

জবাবে পেশোয়ার ১৩০ রানের মোটামুটি সহজ টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায়। তাদের ইনিংসের ১ম ওভারেই তারা ২ উইকেট হারায়! আউট হন হারিস (০৬) এবং বাবর (১ বলে 'শূণ্য')। একপর্যায়ে ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তারা যথেষ্ট বিপদে পড়ে যায়। প্রথম ৬ ওভারে তাদের রান ছিল ৫৩/৪। ম্যাচের মোড় ঘোরান (৫ম উইকেটে) ৮৫ রান তুলে (৬০ বলে) অলরাউন্ডার অ্যারন হার্ডি এবং আঃ সামাদ। আর মাত্র ১৫.২ ওভারেই (২৮ বল হাতে রেখে) পেশোয়ার ১৩০/৫ রান সংগ্রহ করে ৫ উইকেটের জয় পায়। 

পেশোয়ারের পক্ষে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা হার্ডি ৫৬ (৩৯) রান করে নট আউট থাকেন (৯টি চার)। আর সামাদ করেন ৪৮ (৩৪) রান (৩টি চার, ৪টি ছয়)। হায়দ্রাবাদের মোহাম্মদ আলী পান ৩/৩৮। 

ফাইনালের সেরা প্লেয়ার হিসেবে নির্বাচিত হন বলে-ব্যাটে অনবদ্য নৈপুণ্য প্রদর্শন করা (অস্ট্রেলিয়ান তারকা) অ্যারন হার্ডি (৪-০-২৭-৪ এবং ৫৬*)। আর "সিরিজ সেরা" হিসেবে বিবেচিত হন বিজয়ী দলেরই সুফিয়ান মুক্বীম। টুর্নামেন্টে তার উইকেট সংখ্যা ২২। 

আসরে সর্বাধিক রান সংগ্রহ করেছেন পেশোয়ার ক্যাপ্টেন বাবর আযম। ৩টি ফিফটি ও ২টি সেঞ্চুরি সহ তার উইলো থেকে এসেছে মোট ৫৮৮ রান (৪০৩ বল থেকে)। যা পিএসএল-এর এক আসরে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে ফখর জামান ৫৮৮ করেছিলেন ২০২২-এ। আর বাবর আযম ২০২৪-এ করেছিলেন ৫৬৯। 

পেশোয়ার জালমির এটা ('২৬) ২ নম্বর পিএসএল শিরোপা। ইসলামাবাদ ইউনাইটেড এবং লাহোর কালান্দার ৩ বার করে শিরোপা পায় এর আগে। 

 

[তথ্যঃ গুগল এবং ক্রিকবাজ।]

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator