বেশি দামে সার বিক্রি: মোল্লাহাটে লাইসেন্সবিহীন ব্যবসার অভিযোগ
আল হাফিজ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি ও লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার গাওলা ইউনিয়নের শুড়িগাতী সরকারি পুকুর এলাকায় মেসার্স চয়ন ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা পরিচালনা করছেন দিপালোক কির্ত্তুনিয়া। তিনি স্বীকার করেন, তার সারের কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। তবে কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে বলে দাবি করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী আরও জানান, কৃষি অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করেই তিনি ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
অন্যদিকে একই ইউনিয়নের জয়খা এলাকায় দেবদাস মন্ডল (পিতা: কালীপদ মন্ডল), গ্রাম—মাদারতলী, মোল্লাহাটের বিরুদ্ধেও সার ও কীটনাশকের লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি ইউরিয়া সার ২৮–২৯ টাকা, ডিএপি ৩০–৩২ টাকা, এমওপি ২৩–২৪ টাকা এবং টিএসপি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। সরেজমিনে এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। কৃষকদের অভিযোগ, এসব সার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থে নির্ধারিত দামে সার সরবরাহ করলেও মাঠপর্যায়ে তদারকি দুর্বল থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা চাপে পড়ছেন।
কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে বেশি দামে সার বিক্রি ও লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মোল্লাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি, দিপালোক কির্ত্তুনিয়ার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানি না।”
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমি প্রায় দুই বছর ধরে এখানে কর্মরত। দিপালোককে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা না করতে নিষেধ করেছি, কিন্তু তিনি কথা শোনেন না। বিষয়টি আমি এখনো কৃষি অফিস বা ইউএনও মহোদয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাইনি।”
বেশি দামে সার বিক্রি: মোল্লাহাটে লাইসেন্সবিহীন ব্যবসার অভিযোগ | আই নিউজ বিডি
বেশি দামে সার বিক্রি: মোল্লাহাটে লাইসেন্সবিহীন ব্যবসার অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি