এই আসনটি বরাবরই দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যখন সারা দেশে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে সম্মানজনক অবস্থানে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তখন পটুয়াখালী-১ আসনে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
একসময় দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসন ২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর দূরদর্শী সিদ্ধান্তে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী-কে মনোনীত করার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস রচনা করে। তাঁর নেতৃত্বেই আসনটি বিএনপির শক্ত ভিত্তিতে রূপ নেয়।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করেন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কঠোরতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য—যার ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হয়েছে।
দীর্ঘ আওয়ামী শাসনামলে পটুয়াখালীতে তাঁর বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ একাধিকবার শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন দেশের অষ্টম বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
তবুও তিনি সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও বিএনপি'র গণতান্ত্রিক চর্চার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষের মাঝে।
ফলশ্রুতিতে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় ১ লাখ ৫২ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে বিজয় অর্জন করেন—যা ২০০১ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের স্মৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
আমরা তাঁর সাফল্য, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। কারণ তাঁর সাফল্যের সঙ্গে আমাদের প্রিয় পটুয়াখালীর ভবিষ্যৎ ও উন্নয়ন গভীরভাবে সম্পৃক্ত।