উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার নীলফামারী ও লালমনিরহাটের জনপদ আজ স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। তিস্তা পাড়ের হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখরিত প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লোকের উপস্থিতি ।
জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন, “আগামী ১২ তারিখ হবে জালিমদের লাল কার্ড দেখানোর দিন।” তিনি আরও বলেন, “বিদেশি শক্তির করুণায় নয়, দেশের নিজস্ব অর্থায়নে 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা' বাস্তবায়ন করে উত্তরবঙ্গকে কৃষি ও শিল্পের বিপ্লব ঘটাবে জামায়াতে ইসলামী।”
আজ ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিকেলে নীলফামারীর ডিমলা ও ডালিয়া এলাকায় এবং সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা হেলিপ্যাড মাঠে পৃথক দুটি বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন, ড. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো দলীয় সরকার নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
বিশাল জনসমাগম ও জনদুর্ভোগহীন শৃঙ্খলা:
ভোর থেকেই দুই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপ, অটো, ভ্যান, নসিমন ও হেঁটে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশস্থলে সমবেত হন। নীলফামারী-১ আসনের প্রার্থী আব্দুর সাত্তার সমর্থনে আয়োজিত ডিমলার জনসভাটি এক পর্যায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
শিল্পী তারিফুল্লাহর নির্বাচনী গজল ও হামদ-নাতে অনুষ্ঠানস্থল এক ভিন্ন আমেজ পায়। বিশাল জনসমাগম সত্ত্বেও জামায়াতের কয়েক শতাধিক সুশৃঙ্খল ‘ভলেন্টিয়ার’ বা সেচ্ছাসেবক বাহিনীর কারণে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।
প্রার্থী পরিচিতি ও দোয়া:
সমাবেশে আমীরে জামায়াত নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার প্রার্থীদের হাত উঁচিয়ে জনতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। নীলফামারী জেলায় প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন:
নীলফামারী-১ (ডিমলা-ডোমার): আব্দুর সাত্তার ।
নীলফামারী-২ (সদর): মো. আলফারুক আব্দুল লতিফ।
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা): মো. ওবায়দুল্লাহ সালাফী।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ): মো. আব্দুল মুনতাকিম।
একইভাবে লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী ও জেলা আমীর অ্যাডভোকেট মো. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে লালমনিরহাটের সমাবেশেও প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা:
জনসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশস্থলের প্রবেশপথ ও কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে র্যাব-১৩ (রংপুর) এর একাধিক টিম মোতায়েন ছিল। এছাড়া পুলিশ বাহিনী, আনসার সদস্য এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। র্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে সমাবেশ শেষে মানুষকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে সহযোগিতা করতে দেখা যায়।
আমীরে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য:
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুর রহমান বলেন, “রাজনীতির নামে লুটপাট আর চাঁদাবাজির দিন শেষ। আমরা ক্ষমতায় আসলে এমন এক বাংলাদেশ গড়বো যেখানে মানুষের সম্মান সংরক্ষিত থাকবে। তিস্তার পানি আমাদের অধিকার, এই অধিকার আদায়ে আমরা আপসহীন থাকব।” তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “আমি আপনাদের কাছে আমানতদার মানুষগুলোকে তুলে দিয়ে গেলাম। আগামী ১২ তারিখ দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করে ইনসাফ কায়েমের পথ প্রশস্ত করুন।”
ড. শফিকুর রহমান বলেন,