সুমন হাওলাদার:
আকিজ কোম্পানির মাধ্যমে তিন পদে ব্যাটারি চালিত ই-রিকশা বিক্রির প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যাটারি চালিত রিকশার মালিক ও শ্রমিকরা। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে এসব কর্মসূচির কারণে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত রিকশা-ভ্যান খাতে ব্যাটারি চালিত ই-রিকশা চালুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন সংশ্লিষ্ট মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। আন্দোলনকারীদের দাবি, লাইসেন্স ফি বাবদ প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা আদায় করা হলেও এখনো ব্যাটারি চালিত রিকশা চালুর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন কিংবা সমন্বিত নীতিমালা কার্যকর হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে ই-রিকশা বিক্রি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
রামপুরা থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত মানববন্ধন
দাবির সমর্থনে সোমবার সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাটারি চালিত রিকশার মালিক ও শ্রমিকরা দলে দলে এতে অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নীতিমালা ও অনুমোদন ছাড়া বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে ই-রিকশা বিক্রি বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
একই সঙ্গে আন্দোলনকে আরও সংগঠিত করতে রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় কমিটি গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজক ছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যাটারি চালিত রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান চালক শ্রমিক ফেডারেশন।
বাড্ডায় সড়ক অবরোধ, যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ
মানববন্ধনের ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ব্যাটারি চালিত রিকশা চালকরা। লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা বিক্রি বন্ধের দাবিতে তারা এই কর্মসূচিতে নামেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বাড্ডার ফুজি টাওয়ারের সামনে সড়ক অবরোধ শুরু হলে কুড়িল থেকে রামপুরা সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে পড়েন।
পুলিশের বক্তব্য
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাড্ডা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আজহারুল ইসলাম বলেন,
“একটি দাবিকে কেন্দ্র করে ব্যাটারি চালিত রিকশার চালকরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এলাকাটিতে আগে থেকেই মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় অবরোধের কারণে যানজট ও ভোগান্তি বহুগুণে বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে।
পরবর্তী কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
আন্দোলনরত রিকশা চালকদের ভাষ্য, আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে তাদের দাবি অনুযায়ী লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা বিক্রি বন্ধ না করা হলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে সিটি করপোরেশন কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।