ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম মো. কবির। রোববার গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের একটি এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী সোমবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তারের পর কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পল্টন থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে।
র্যাব সূত্র জানায়, ঘটনার কয়েক দিন আগে গত ৫ ডিসেম্বর কবির ফয়সল করিমের সঙ্গে রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কবির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে সেখানে তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। ফুটেজ দেখানোর পর কবির স্বীকার করেন, তিনি ফয়সল করিমের সঙ্গে ওই দিন প্রতিষ্ঠানটি ‘দেখে আসার’ উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ধারণা করছেন, মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা ফয়সল করিমই ওসমান হাদিকে গুলি করেন। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তাঁর স্ত্রী পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমাসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া কবিরকে নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
র্যাব জানায়, কবিরের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার সদর থানার বড় বিঘাই গ্রামে। ফয়সল করিমের গ্রামের বাড়িও একই জেলায়। তদন্তে তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও হামলার আগে-পরে গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার মূল পরিকল্পনা, সহযোগীদের ভূমিকা এবং পলাতক ফয়সল করিমকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।