বৃদ্ধের দুই আঙুল কেটে দিল প্রতিপক্ষ, মামলা নেয়নি পুলিশ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বৃদ্ধের দুই আঙুল কেটে দিল প্রতিপক্ষ, মামলা নেয়নি পুলিশ

Touhid Sarkar avatar   
Touhid Sarkar
বৃদ্ধের দুই আঙুল কেটে দিল প্রতিপক্ষ, মামলা নেয়নি পুলিশ
বৃদ্ধের দুই আঙুল কেটে দিল প্রতিপক্ষ, মামলা নেয়নি পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে তার দুই আঙুল বিচ্ছিন্ন করেছে প্রতিপক্ষ। ঘটনার পাঁচ দিন অতিক্রান্ত হলেও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এখনো মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ..

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২০ অক্টোবর (সোমবার) সকালে উপজেলার সখিপুর থানার ডিএমখালি ইউনিয়নের কাদির সরকার কান্দি এলাকায়।

 

আহত ব্যক্তির নাম আনোয়ার হোসেন মাদবর (৬৫)। তিনি বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন—সুমন মাদবর (৪০), রুনা লায়লা (২৭), বেলা মাদবর (৬০), জিন্না মাদবর (৩৩), মনির মাদবর (৪২), ইসমাইল মাদবর (২৮) ও লাবনী আক্তার (২৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন মাদবর ও সুমন মাদবরের মধ্যে প্রায় ১০ বছর ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

গত সোমবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে ফসল তোলাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমন মাদবর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনোয়ার হোসেনের উপর হামলা চালায়। এতে তার ডান হাতের দুটি আঙুল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অন্য আঙুল ও পিঠে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে একই দিন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

 

মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

 

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার পরপরই থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে লিখিত অভিযোগ জমা রেখে চলে যেতে বলে। পরদিনও থানায় গেলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিপন নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেন। শুক্রবার রাতে থানায় ডেকে বসিয়ে রাখলেও মামলা না নিয়ে উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী বেলাতুন নেসা বলেন,

 

“আমার স্বামীকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষ কুপিয়ে দুই আঙুল বিচ্ছিন্ন করেছে। থানায় গিয়ে অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু পাঁচ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ। আসামি পক্ষ এখন আমাদের হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমি ন্যায়বিচার চাই।”

 

আনোয়ার মাদবরের ভাই আজহারুল মাদবর বলেন,

 

“ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় কোপ দিতে গেলে তিনি হাত তুললে আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়। পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিলেও মামলা নেয়নি। টালবাহানা করছে। আমরা দ্রুত আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ চাই।”

 

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মাদবর বলেন, “সুমন মাদবর এলাকায় চাঁদাবাজ ও প্রভাবশালী। তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ আছে। কেউ থানায় গেলে সে টাকার জোরে মামলা ধামাচাপা দেয়। এ ঘটনায় মামলা না নেওয়া পুলিশের চরম গাফিলতি।”

 

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সখিপুর থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ ছুটির অজুহাত দেখিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিপন বলেন, “অভিযোগের কপি আমার কাছে আছে। বাদী ও আসামি পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

এদিকে সহকারী পুলিশ সুপার (ভেদরগঞ্জ সার্কেল) সৌম্য শেখর পাল বলেন,

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator