বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কমিশনের প্রতিনিধি দল তাঁর হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেয় এভারকেয়ার হাসপাতালে।
রাজনীতির অচলাবস্থা নিরসন ও জাতীয় ঐক্যের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাক্ষরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এই সনদে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিত্বদের সম্মতি ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পথনির্দেশনা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার হাতে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেয় কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন কমিশনের সদস্য ও বিশিষ্ট নাগরিক বদিউল আলম মজুমদার এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জাতীয় ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দার।
সূত্র জানায়, কমিশনের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার কাছে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করার আগ্রহও প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিনিধি দল তাঁকে আশ্বস্ত করেছে যে, জুলাই সনদটি হবে একটি অরাজনৈতিক, জনমুখী ও জাতীয় স্বার্থনির্ভর প্রস্তাবনা, যেখানে সবার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
খালেদা জিয়া আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে কমিশনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বলেন, “দেশের জনগণের শান্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে কোনো উদ্যোগে বিএনপি সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়।”
এদিকে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের একজন মুখপাত্র জানান, আগামী সপ্তাহে ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আবারও জাতীয় ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। যদি সব পক্ষ আন্তরিকভাবে অংশ নেয়, তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এটি এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হতে পারে।
দেশের জনগণ এখন তাকিয়ে আছে এই জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিকে—যেখানে হয়তো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।