কয়েকজন উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন: জামায়াতের সেক্রেটারি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কয়েকজন উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন: জামায়াতের সেক্রেটারি..

Mamun Sorder  avatar   
Mamun Sorder
কয়েকজন উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন: জামায়াতের সেক্রেটারি..
কয়েকজন উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন: জামায়াতের সেক্রেটারি..
ছবি: সংগৃহীত
Jamaat leader Mia Golam Porwar claims several advisers are secretly tied to a political group and attempting to mislead interim government chief adviser Professor Muhammad Yunus.

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা গোপনে একটি বিশেষ দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।

রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সেমিনারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা কয়েকজন সদস্যের সমালোচনা করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, “আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, আপনি যে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন, সেখানে দুই-একজন উপদেষ্টা আছেন যারা একটি বিশেষ দলের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক রেখে আপনাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তারা আপনার গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। আপনি এসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন, সাবধান থাকবেন।”

তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, আপনি জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন এবং স্বচ্ছ একটি নির্বাচন সম্পন্ন করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবেন।” গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, অধ্যাপক ইউনূস নিজেই জানিয়েছেন যে তিনি দেশ শাসন করতে আসেননি, বরং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পর নিজের কাজে ফিরে যেতে চান। “কিন্তু আপনার আশপাশের কিছু উপদেষ্টা আপনাকে ভুল পথে নিতে চাচ্ছে,”—যোগ করেন তিনি।

জুলাই সনদ নিয়ে মন্তব্য

জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, “একটা বড় রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর অবস্থান নিয়েছে। তারা কখনো বলেছে আদালতে যান, কখনো বলেছে পরবর্তী পার্লামেন্টে সিদ্ধান্ত হবে। এর অর্থ হলো, তারা দেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে নতুন ষড়যন্ত্রের দিকে ঠেলে দিতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যারা গণতন্ত্রের নতুন স্বপ্ন দেখছেন, তারা নিঃস্বার্থভাবে যে ঐক্যমত কমিশন গঠন করেছেন, সেটি আজ দেশের গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সেই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে তথাকথিত বড় দলগুলোকে এখন তাদের অবস্থান বদলাতে বাধ্য হতে হয়েছে।”

জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে

আগামীকাল অনুষ্ঠেয় জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেবে কি না, সেই প্রশ্নে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি। আমাদের কিছু সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি। তবে আলোচনার মাধ্যমে যদি সমাধানের সুযোগ দেখি, তাহলে অনুষ্ঠানে যোগদানে আপত্তি থাকবে না। আমরা আমন্ত্রণ পেয়েছি, তবে বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।”

গণভোটের দাবি

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে গোলাম পরওয়ার বলেন, “একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলে অনেক ভোটার ভোট দিতে পারবে না। অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সময় ফুরিয়ে ফেলবে, বুঝতেই পারবে না কোন প্রশ্নে ভোট দিচ্ছে। তাই জনগণকে সময় দিয়ে চিন্তা করার সুযোগ দিতে নির্বাচনের আগে গণভোট নিতে হবে।”

তিনি মনে করেন, নভেম্বর মাসই গণভোটের জন্য উপযুক্ত সময়। “গণভোট আগে হলে মানুষ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, ফলে জাতীয় নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হবে,” বলেন তিনি।

সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন সাবেক বিচারপতি ফরিদ আহমেদ, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনূস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ, সাবেক সচিব জাহিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির ইউছুপ আশরাফ।

তারা সবাই জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ও গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণই এখন সময়ের দাবি।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator