টাইফয়েড টিকা: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

টাইফয়েড টিকা: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Shimul Rahman avatar   
Shimul Rahman
টাইফয়েড টিকা: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
টাইফয়েড টিকা: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশে প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কমবয়সী প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে এক ডোজ ইনজ..

অভিভাবকদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া: https://vaxepi.gov.bd/registration/tcv এই ওয়েবসাইটে গিয়ে ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে। নিবন্ধনের পর জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে সরাসরি ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করে রাখতে হবে।

টাইফয়েড টিকা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর:

১. টাইফয়েড জ্বর কী? এটি কিভাবে ছড়ায়?
উত্তর: বাংলাদেশে সংক্রমণজনিত রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো টাইফয়েড। এটি “স্যালমোনেলা টাইফি” ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্টি হয়। দূষিত পানি ও খাবার থেকে এই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে।

২. টাইফয়েড প্রতিরোধে টিসিভি (Typhoid Conjugate Vaccine) টিকা কি নিরাপদ ও কার্যকর?
উত্তর: হ্যাঁ, টিসিভি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর। বিশ্বজুড়ে শিশুরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছাড়াই এই টিকা নিচ্ছে। বাংলাদেশে ব্যবহৃত টিসিভি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বারা অনুমোদিত (Prequalified)। সামান্য প্রতিক্রিয়া যেমন: টিকা স্থলে লালভাব, ফুলে যাওয়া, ব্যথা, হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বা পেশীতে ব্যথা দেখা যেতে পারে; এগুলো স্বাভাবিকভাবে চলে যায়।

৩. ক্যাম্পেইনে টাইফয়েড টিকা কারা নিতে পারবে?
উত্তর: চলাকালীন সময়ে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি/সমমান পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ স্কুলে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানবিহীন ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের শিশুরা বিদ্যমান ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা পাবে।

৪. টাইফয়েড টিকা কোথায় প্রদান করা হয়?
উত্তর: ২ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের জন্য ০.৫ এমএল ডোজ ঊরুর বাইরের মাংসপেশিতে এবং ২ বছরের বেশি বয়সীদের বাহুর বাইরের অংশে ডেল্টয়েড পেশিতে দেওয়া হয়।

৫. শুধু শিশুদের জন্য কেন টাইফয়েড টিকা দেওয়া হচ্ছে?
উত্তর: বাংলাদেশে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরাই বেশি আক্রান্ত। এই বয়সে এক ডোজ টিকা রোগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ তৈরি করে। ফলে এই ক্যাম্পেইনে এই বয়সীদেরই টিকা দেওয়া হচ্ছে। পরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতেও এই টিকা চালু থাকবে।

৬. ১৫ বছরের বেশি বয়সীরা কি এই টিকা নিতে পারবেন?
উত্তর: সরকারি উদ্যোগে এই ক্যাম্পেইনে শুধুমাত্র ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা ১ ডোজ টিকা পাবে। তবে ১৫ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো ব্যক্তি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিজ উদ্যোগে এই টিকা নিতে পারেন।

৭. টিসিভি টিকা দিলে কি টাইফয়েড হবে না?
উত্তর: এই টিকা গ্রহণের মাধ্যমে টাইফয়েডের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। তবে, আক্রান্ত হলে জটিলতা কম হয় এবং পুনরায় আক্রান্তের সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

৮. এই টিকা নারীর গর্ভকালীন বা সন্তান ধারণে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে কি?
উত্তর: না, টিসিভি খুবই নিরাপদ। এটি গর্ভাবস্থায় বা সন্তান ধারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। বরং, এটি টাইফয়েড থেকে সুরক্ষা দেয়।

৯. গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী মা কি এই টিকা নিতে পারবেন?
উত্তর: না, এই টিকা গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী মহিলাদের জন্য নয়।

১০. টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত থাকলে এই টিকা নিতে পারবেন কি?
উত্তর: না, জ্বর বা টাইফয়েডে আক্রান্ত থাকলে এই টিকা নেওয়া যাবে না। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে পরবর্তী সময়ে নেওয়া যাবে।

১১. আগে যদি টাইফয়েড হয়, তাহলে কি আবার এই টিকা নেওয়া যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, নেওয়া যাবে।

১২. অন্য টিকা গ্রহণের সঙ্গে টাইফয়েড টিকা দেওয়ার কোনও সম্পর্ক আছে কি?
উত্তর: না, একই সময়ে বা পরে অন্য টিকা নেওয়া সম্ভব।

১৩. আগে টাইফয়েড টিকা নেওয়া থাকলে কি আবার ক্যাম্পেইনে নেওয়া যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, এই বয়সের শিশুরা আগে টিকা নিলেও ক্যাম্পেইনে এক ডোজ নেওয়া আবশ্যক।

১৪. ক্যাম্পেইনের সময় বাইরের এলাকা থেকে আসা শিশুদের জন্য কি টিকা দেওয়া সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, দেওয়া যাবে।

১৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলে কি টিকা নেওয়া সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, যারা নির্ধারিত দিনে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তারা অন্য কোনো নিয়মিত বা স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবেন।

১৬. নির্ধারিত এলাকাবাহিরে শিশুরা টিকা পায়নি, তাহলে কি আবার নেওয়া সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, এই সময়ে যেকোনো কেন্দ্রে টিকা নেওয়া যাবে।

১৭. এই টিকা কি সরকারি উদ্যোগে দেওয়া হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে।

১৮. টিকা নেওয়ার সময় অনেক কিশোরী অস্বস্তি বা অজ্ঞান হয়ে গেলে কেন হয়?
উত্তর: এটি মানসিক ভীতিজনিত প্রতিক্রিয়া, যা “Mass Psychogenic Illness” নামে পরিচিত। এটি সাধারণত মানসিক চাপ বা আতঙ্কের কারণে ঘটে, টিকা বা শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

এখন টিভির একটি প্রতিবেদন দেখতে ক্লিক করুন

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator