জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু..

আল  avatar   
আল
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু..
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু..
ছবি: সংগৃহীত
রাতের জরুরি চিকিৎসা ও পরিবহন সংকটে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

মোঃ আবু সুফিয়ান মুক্তার, জয়পুরহাট প্রতিনিধি:..

জরুরি চিকিৎসা ও পরিবহন সংকটে জয়পুরহাটের গ্রামে গৃহবধূর মৃত্যুজয়পুরহাটের শিরতা গ্রামে সাপের কামড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু, এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া।জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের শিরতা গ্রামে সাপের কামড়ে রানু বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে রানু বেগম ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন, যখন একটি বিষধর সাপ তাকে কামড়ে দেয়। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় তার ঘুম ভেঙে গেলে তিনি শরীর খুঁজে হাঁটুর ওপরে কামড়ের চিহ্ন দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে স্বামীকে ডাকেন।পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু গভীর রাতে স্থানীয়ভাবে কোনো যানবাহন পাওয়া না যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে তাকে জয়পুরহাট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একইসঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র জনরোষ। অনেকেই অভিযোগ করছেন— গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ করে রাতের বেলায় জরুরি চিকিৎসা ও পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় এমন মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'রাতে যদি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স বা চিকিৎসা সুবিধা থাকত, তাহলে হয়তো রানু বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হতো।'এদিকে, সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন— প্রতিটি ইউনিয়নে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের দাবি, এ ধরনের উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটতে পারে, যা প্রতিরোধযোগ্য।বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় জরুরি চিকিৎসা ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাব একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। এটি সমাধানে সরকারকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন সংকটের সমাধান না হলে গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একক কোনো মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন, যা দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।ট্যাগস: জয়পুরহাট, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন সংকট, গ্রামীণ স্বাস্থ্য, সামাজিক সমস্যা

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator