ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: আজ ২৬ জুলাই, শুক্রবার। আজকের এই দিনে ভালুকার মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এক অমূল্য নাম-বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. রমজান আলী তরফদারের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। ভালুকার জনমানসে ‘রমজান ডাক্তার’ নামটি আজও সমান শ্রদ্ধায় উচ্চারিত হয়। নিঃস্বার্থ সেবা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের অটুট প্রতিচ্ছবি ছিলেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর একটি পুরনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে, তা দেখেই আবেগে ভেসে যান হাজারো নেটিজেন। ভিডিওতে উঠে এসেছে তাঁর মানবিক চিকিৎসা সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সাহসী অবদানের কিছু উজ্জ্বল ঝলক। সেই ভিডিও ঘিরেই শুরু হয় ভালুকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এক স্বতঃস্ফূর্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মৃতিচারণের ঢল।
রমজান আলী তরফদার শুধুমাত্র একজন চিকিৎসক ছিলেন না। তিনি ছিলেন দরিদ্র মানুষের এক আশ্রয়, এক নির্ভরতার নাম। টাকা না থাকায় কোনো রোগী তাঁর চেম্বার থেকে ফেরত যাননি-এমন নজির ছিল বিরল নয়। তিনি ওষুধ কিনে দিয়েছেন, রোগী নিজ খরচে ঢাকা পাঠিয়েছেন, এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসাও দিয়েছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ বলতেন, “রমজান ডাক্তার মানেই ভরসা।”
১৯৭১ সালে দেশের প্রয়োজনে তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন এক বিপ্লবী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। জীবন ঝুঁকি নিয়েও মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে ছিলেন নির্ভীকভাবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এই দিনকে ঘিরে একাধিক স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধাবার্তা প্রকাশ পেয়েছে। সাংবাদিক কামরুল হাসান পাঠান লিখেছেন, “আজও ভালুকা সদরসহ গ্রামের মানুষের কাছে একটি প্রিয় নাম রমজান ডাক্তার। তিনি অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন। উনি আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয়।”
স্থানীয় সাংবাদিক শেখ মহিউদ্দিন মন্তব্য করেছেন, “তিনি ছিলেন একজন ভালো মানুষ, প্রকৃত সেবক ও দেশপ্রেমিক।”
সংবাদকর্মী মখলেছুর রহমান মনির লেখেন, “রমজান ডাক্তার ছিলেন একাধারে মানবতার ফেরিওয়ালা, একজন যোদ্ধা ও নিঃস্বার্থ সেবক।”
ভালুকার প্রতিটি প্রজন্মের হৃদয়ে রমজান ডাক্তার শুধু একজন চিকিৎসক নন, বরং এক জীবন্ত ইতিহাস, এক প্রেরণার উৎস। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য তাঁর জীবন হতে পারে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সমাজসেবার এক দুর্লভ অনুপ্রেরণা।
ভালুকার ইতিহাসে ডা. রমজান আলী তরফদার থাকবেন চিরস্মরণীয় এক নাম হিসেবে-ভালোবাসায় মোড়ানো, সম্মানে উচ্চারিত এক গর্বিত পরিচয়।