নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার গোহালাকান্দা ফরিবাড়ী গ্রামে সানি (২১) নামের এক তরুণ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মানসিক অস্থিরতা থেকেই এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সানি।
সানির পরিবার জানায় যে, গত কয়েক মাস ধরে সানির আচরণে অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। গভীর রাতে বাসায় ফিরতে থাকা, একাকী সময় কাটানো এবং হতাশাগ্রস্ত মনোভাব তার পরিবারের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ঘটনার আগের রাতেও সানি দেরিতে বাড়ি ফিরলে তার মা আফরোজা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘এত রাতে তোকে প্রতিদিন খাবার দিতে হয় কেন?’
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সানি বিষপান করেন, যা তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায়। স্থানীয়ভাবে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বুধবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সানির পিতা মুশতাক আহমেদ এবং মাতা আফরোজা আক্তার সন্তান হারিয়ে শোকে মুহ্যমান। তাদের মতে, এটি নিছক পারিবারিক বিষন্নতা থেকে ঘটেছে।
পূর্বধলা থানার ওসি জানান, এই বিষয়ে থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে মৃত্যুর কারণ তদন্তাধীন। আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কিনা তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা এড়াতে পারিবারিক ও সামাজিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ সমাজের মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে মনোচিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
সমাজের জন্য এই ঘটনা একটি বার্তা বহন করে যে, মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করা উচিত নয়। মানসিক অস্থিরতায় ভোগা ব্যক্তিরা যাতে সহজেই সাহায্য পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর উচিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
এটি শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকে একটি বার্তা দেয় যে, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সচেতনতা এবং সমর্থন প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে তরুণদের মানসিক চাপ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পরিবারে ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।