যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি: বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে সংকটের আশঙ্কা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি: বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে সংকটের আশঙ্কা..

RAFIQUL ISLAM avatar   
RAFIQUL ISLAM
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি: বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে সংকটের আশঙ্কা..
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি: বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে সংকটের আশঙ্কা..
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্যারিফ নীতিতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে ৫০% শুল্ক আরোপের আশঙ্কা।..

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নতুন নীতির আওতায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ কার্যকর শুল্কহার (ইটিআর) প্রযোজ্য হবে, যা বর্তমানে প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে নতুন করে আরোপিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক মিলিয়ে নির্ধারিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা ফিচ রেটিংসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

 

ফিচ রেটিংসের ‘ইউএস ইটিআর মনিটর’ নামের একটি ইন্টার‌্যাকটিভ টুল অনুযায়ী, বাংলাদেশ নতুন শুল্ক কাঠামোর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নীতির আওতায় অন্যান্য দেশ তেল-গ্যাস, তামা, ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ শুল্কছাড় পেলেও বাংলাদেশ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। ফলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য উচ্চ শুল্কের আওতায় চলে আসবে।

 

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই অস্বাভাবিক শুল্ক বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শর্তাবলির পর্যালোচনা চলছে। তবে এই শর্তাবলির মধ্যে অনেকগুলো বিষয় বাণিজ্য ছাড়াও কূটনৈতিক ও নীতিগত পর্যায়ের, যা নিয়ে আলোচনা জটিল হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ সরকার এখন এমন একটি কৌশলগত জবাব খুঁজছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে এই নতুন শুল্ক আরোপ পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করা যায়।

 

বর্তমানে বাংলাদেশের ইটিআর ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। চীনের ইটিআর ৪১.৪ শতাংশ অপরিবর্তিত রয়েছে। কানাডার ইটিআর ৩৫ শতাংশ, মেক্সিকোর ৩০ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১২ থেকে ৩০ শতাংশ, ভিয়েতনামের নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে ২০ শতাংশ অপরিবর্তিত, আর ইন্দোনেশিয়ার ১৯ শতাংশ অপরিবর্তিত রয়েছে। এই তুলনায় বাংলাদেশের ইটিআর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক গুরুতর হুমকি।

 

বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে এই শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সমাজ ও অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তৈরি পোশাক খাত, যা বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত, সেখানে কর্মসংস্থান হ্রাস এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সংকট দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ সরকার এবং ব্যবসায়িক মহল উভয়ই কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান খুঁজছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বাংলাদেশের উচিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া। সামগ্রিকভাবে, এই শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব শুধুমাত্র বাণিজ্যিক নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator