মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ এনে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১২.০৭.২০২৫ তারিখে দৈনিক যুগান্তর ‘বিস্ফোরক টাস্কফোর্স’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে বলা হয়, সম্প্রতি সংঘটিত সোহাগ নামক এক ব্যবসায়ীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং এটি চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত।
বিএনপির দাবি, পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত এবং অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, হত্যাকাণ্ডটি দুটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মধ্যেকার ব্যবসায়িক বিরোধের ফল এবং এতে কোনো চাঁদাবাজি বা রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিএনপি আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ঘটনায় তাদের দল বা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ নেই। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং বিদ্বেষপ্রসূত বলে তারা মনে করে।
নোটিশে বলা হয়েছে, এই ধরনের ভিত্তিহীন ও মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্দেশ্য হলো বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করা। এই প্রতিবেদনটি দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অনৈতিক, যা বিএনপির সুনাম, রাজনৈতিক অবস্থান এবং জনসমর্থনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বিএনপি এই ধরনের সংবাদ প্রকাশকে সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে এবং এটিকে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমতকে প্রভাবিত করার একটি অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, এটি বিএনপি সদস্যদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত সম্মানহানি ঘটিয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, শত্রুতা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
নোটিশ পাওয়ার ৫ (পাঁচ) দিনের মধ্যে দৈনিক যুগান্তরকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে:
-
প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদটির জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং মূল নিবন্ধের পাশাপাশি একটি সংশোধনী প্রকাশ করা, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে যে নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি একটি ব্যবসায়িক বিরোধের ফল এবং এর সাথে চাঁদাবাজি বা কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা নেই।
-
ভবিষ্যতে বিএনপি সম্পর্কে কোনো মিথ্যা বিবৃতি প্রদান থেকে বিরত থাকার নিশ্চয়তা প্রদান।
যদি এই দাবিগুলো ৫ (পাঁচ) দিনের মধ্যে পূরণ না হয়, তাহলে বিএনপির পক্ষ থেকে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা, যার মধ্যে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা এবং ক্ষতিপূরণের মামলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, গ্রহণ করা হবে। এই আইনি পদক্ষেপের সমস্ত ঝুঁকি ও দায়ভার দৈনিক যুগান্তরকে বহন করতে হবে।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার-এট-ল, অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ এবং লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, বিএনপি, এই আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।