জামালপুরের বকশীগঞ্জ এলাকায় এক গ্রাম পুলিশ সদস্যের মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং নিন্দার ঝড় তুলেছে। পেশাগত দায়িত্বের আড়ালে মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া রঙ্গিলা রবিদাস (৩৫) স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ হিসেবে কাজ করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার (১১ জুলাই) গভীর রাতে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মালিরচর মন্ডলপাড়ায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ২০ পিস ইয়াবা ও ১৫ গ্রাম হিরোইনসহ তাকে আটক করে। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রঙ্গিলা রবিদাসের কীটনাশক বিক্রয় কেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়, যা আসলে মাদকের গোপন ঘাঁটি ছিল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল হালিম রাজ এই ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, 'আটক রঙ্গিলা রবিদাসের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রাম পুলিশের মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন অপরাধ দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।'
এই ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান, রঙ্গিলা রবিদাসের মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও খুঁজে বের করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা সমাজের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থা কমিয়ে দেয়। তাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য আলোচনা শুরু করেছে।