সাতক্ষীরার তালায় বর্ষার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা: ফসল ও জীবন বিপর্যস্ত.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সাতক্ষীরার তালায় বর্ষার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা: ফসল ও জীবন বিপর্যস্ত..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার তালায় বর্ষার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা: ফসল ও জীবন বিপর্যস্ত..
সাতক্ষীরার তালায় বর্ষার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা: ফসল ও জীবন বিপর্যস্ত..
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চরম বিপর্যয়ে পড়েছে ফসল ও জনজীবন..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় চলমান বর্ষার টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা স্থানীয় জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। অবস্থানগত ভাবে নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে থাকায় জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকদের কাঁচা ফসল এবং শত শত মাছের ঘের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

মঙ্গলবার সকালে তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পাকা ও কাঁচা রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে আছে। ফলে অনেক দোকানপাট, বাজার এবং বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আগামী দুই দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া, খেশরা, জালালপুর, মাগুরা, খলিশখালী, খলিলনগর, এবং ইসলামকাটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর ফলে আমন ধানের বিজতলা, সবজি খেত, মাছের ঘের, পুকুর, এবং বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মাগুরা ইউনিয়নের মাদরা গ্রামের কৃষক প্রসাদ বাবু জানান, "আমাদের এলাকায় আমন ধানের বিজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ধান রোপণের জন্য প্রস্তুত রাখা জমিও এখন থমথমে পানির নিচে। সবজির ক্ষেতেও হাঁটুপানি জমে আছে।" দোহার গ্রামের মাছচাষি ছবেদ আলী বলেন, "ছোট ছোট মাছের ঘেরের ভেড়ি ভেঙে মাছ বেরিয়ে গেছে। বড় বড় ঘেরের অবস্থাও টলমল করছে। যে কোনো সময় ভেড়ি ভেঙে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।"

তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান বলেন, "প্রতি বছর বর্ষায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এবারও অতি বৃষ্টির কারণে তালাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারি নানা প্রকল্পে কালভার্টগুলো সচল রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কালভার্ট বন্ধ থাকে। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না।"

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু বলেন, "আমাদের ইউনিয়নের অন্তত সাতটি গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।" উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, "অতি বৃষ্টির কারণে আমন ধানের বিজতলা তলিয়ে গেছে এবং কাঁচা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।"

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী সরকার বলেন, "জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই আলোচনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। শালতা নদী খনন, খাস খালগুলো উন্মুক্ত রাখা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালানো হলে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator