মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুরের ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ সঈদ উদ্দীন ডিগ্রি কলেজকে একটি সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও সায়হাম নীট কম্পোজিট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকারের কথা জানান।
সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, সময়োপযোগী ও সুপরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে গড়ে তুলতে কার্যকর ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে নিয়মিত শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম আয়োজন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করে কলেজের বিদ্যমান সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান করা হবে। আর্থিক কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়—সে বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিতে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, সহযোগিতা ও আস্থার পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কলেজের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। শিক্ষার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান।
অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ জাহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক তালুকদার, অধ্যাপক মইন উদ্দিন, মাধবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী গোলাপ খান, পৌর সেক্রেটারি আলা উদ্দিন আল রনি এবং কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য হাজী ফিরোজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা কলেজের সার্বিক উন্নয়নে নতুন গভর্নিং বডির উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পিঠা উৎসব উপলক্ষে কলেজ প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা ধরনের পিঠার আয়োজন অনুষ্ঠানে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। শেষে আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বিকাশে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।