টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে অবস্থিত বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারে সম্প্রতি এক বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কালজয়ী নারীবাদী কল্পকাহিনি ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ঘিরে সৃজনশীলতার এক অনন্য আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সুলতানার স্বপ্ন : শতাব্দী পেরিয়ে আজকের পাঠ’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে গ্রন্থ বিতরণ, চিত্রাঙ্কন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মুক্তচিন্তা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা হয়। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে ২০ জন পাঠকের হাতে বইটি তুলে দেওয়া হয়, যাদের আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে নিজেদের পাঠ প্রতিক্রিয়া জমা দিতে বলা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল স্লোগান ছিল “সুলতানার স্বপ্ন পড়ো; সৃজনশীল অনুভূতি প্রকাশ করো”, যা নারী-পুরুষের সমতা, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং আধুনিক সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রগতিশীল ধারণার প্রসারে এক সুদূরপ্রসারী বার্তা বহন করে। উল্লেখ্য, এই গ্রন্থটি ২০২৪ সালে ইউনেস্কোর মেমোরি অব দা ওয়ার্ল্ড এশিয়া-প্যাসিফিক কমিটির আঞ্চলিক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এর বৈশ্বিক প্রাসঙ্গিকতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এমন আয়োজনের গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৯০৫ সালে রচিত ‘সুলতানার স্বপ্ন’ কেবল একটি সাহিত্যকর্ম নয়, বরং এটি একটি দূরদর্শী সামাজিক ও রাজনৈতিক ইশতেহার, যেখানে ‘লেডিল্যান্ড’ নামক এক কাল্পনিক সমাজের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই সমাজে নারীরা শিক্ষা, বিজ্ঞান ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেয়, যেখানে প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র অঙ্কন করে রোকেয়া নারীশিক্ষা, স্বাধীনতা এবং সমতার এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। বর্তমান আয়োজনের মাধ্যমে এই কালজয়ী গ্রন্থের মূল বার্তাগুলোকে নতুন প্রজন্মের পাঠকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গভীর উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে। পাঠকদের হাতে বই তুলে দিয়ে কেবল পড়ার আহ্বান জানানো হয়নি, বরং ২৫ নভেম্বরের মধ্যে পাঠ প্রতিক্রিয়া জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তাদের মধ্যে বিষয়বস্তু নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ এবং নিজস্ব মতামত