ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে দখলদারত্ব, চাঁদাবাজি এবং দলীয়করণে জড়িয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে মেধাবী ও যোগ্য তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজারের জুড়ীতে উপজেলা ছাত্রশিবির আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন,বিভিন্ন ধরনের কার্ড চালুর মাধ্যমে দুর্নীতি করে দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে মেধাবী তরুণদের চাকরি পাওয়ার সুযোগ কমছে। একই সঙ্গে ভেরিফিকেশনের নামে জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
জুলাইয়ের আন্দোলন ও সংশ্লিষ্টদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,জুলাই শহীদ ও আহতদের সঙ্গে বিএনপি বিশ্বাসঘাতকতা করছে বলে তিনি মনে করেন। ওসমান হাদীর লড়াই অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,জুলাইয়ের চেতনা রক্ষা করতে হবে। যারা জুলাই সনদ মানে না,তাদেরও তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন,শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। তাঁর ভাষ্য,কোটা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার পতন ঘটেছিল। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে নতুন করে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বিএনপির বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ডাকসু ভিপি বলেন,দলটি ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন এলাকায় টেম্পু ও বাসস্ট্যান্ড দখল করেছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন,নির্বাচনের আগে তারেক জিয়া তাঁর হাতে ‘জাদু’ থাকার কথা বলেছিলেন। এখন সেই জাদু ব্যর্থতার জাদুতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ ব্যাপক লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হয়েছে। সারের দাবিতে আন্দোলন করায় কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
হাসপাতালে হামলার প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকার মিরপুরে হাসপাতালে হামলার ঘটনা এবং অতীতে হাসপাতাল ও মানুষের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর মধ্যে তিনি মিল দেখতে পান। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় জড়িত। এসব ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন,দলটি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ওসমান হাদী হত্যার বিচার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বিএনপি সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তাঁদের যোগ্য নেতৃত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করেন সাদিক কায়েম। তাঁর অভিযোগ,আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এ পরিস্থিতির দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগের আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডাকসু ভিপি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে ডাকসু কাজ করছে। প্রাপ্ত বাজেটের চেয়ে বেশি কাজ করার দাবি করে তিনি বলেন,ডাকসুর ১০৫ বছরের ইতিহাসে এমন কাজ আর কেউ করতে পারেনি।
ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
এর আগে বক্তব্যের শুরুতে সাদিক কায়েম বলেন,জুড়ীর বিএনপির একজন এমপি হুমকি দেন বলে তাঁরা শুনেছেন। তবে জামায়াত-শিবির আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ন্যায়ের পক্ষে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণজমায়েতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের স্থানীয় এমপি প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান,উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হাই হেলাল, সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন,জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি আজিজ আহমেদ কিবরিয়া,ডাকসুর সদস্য শহীনুর রহমান, শিবিরের সাবেক মাদরাসাবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং সাবেক তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজিরুল ইসলাম জুয়েলসহ স্থানীয় নেতারা।