মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরীকে (২৮) গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে তাঁকে মৌলভীবাজারের বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জান্নাতুল ফেরদৌস কুলাউড়া উপজেলার ভাতাইয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মুসাব্বির চৌধুরীর মেয়ে। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বড় বোন ফাতেহা ফেরদৌস চৌধুরী (পপি) কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,গত শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে কুলাউড়ার ভাতাইয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে জান্নাতুল ফেরদৌসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই রাতেই তাঁকে বড়লেখা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সকালে জান্নাতুল ফেরদৌস তাঁর বাড়ির পাশের ভাতাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় জাতীয় পতাকার পাশাপাশি কালো পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রেখে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসব কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়,২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল রাতে বড়লেখা পৌর শহরের উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনের সড়কে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়। একই সময় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সীমানাদেয়ালে লাল রং দিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান লেখার অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় ১২ এপ্রিল সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বড়লেখা থানায় মামলা করে পুলিশ। মামলায় ১৫ জন চিহ্নিত নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
পুলিশের দাবি,মামলাটি তদন্তকালে বড়লেখায় ওই ঝটিকা মিছিল ও দেয়াললেখার ঘটনায় জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। সেই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।