শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্মচারীদের মুখে হাসি ফুটল এক অনন্য উদ্যোগে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ও সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামানের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আয়োজিত এই হৃদয়গ্রাহী কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠানটি ছিল শুধু একটি সামগ্রী বিতরণের আয়োজন নয়; বরং ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিকতা ও রাজনৈতিক উদারতার প্রতিচ্ছবি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা তুলে ধরেন মির্জা মোস্তফা জামান। তিনি বলেন, "বিএনপি শুধু জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নয়, বরং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায়ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। এদেশের প্রতিটি ধর্মাবলম্বীর উৎসবে বিএনপি সবসময় পাশে থাকবে।"
এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন ইসলাম খান, জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ আসলাম উদ্দিন, জেলা বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক জিন্নাহ সরদার, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত হাসান সুমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আকাশ খন্দকার, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ তাইবুল হাসান, পৌর জাসাস সভাপতি সাইফুল ইসলাম, পৌর জাসাস সাধারণ সম্পাদক শাওন আহমেদ, পৌর জাসাসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহাগ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ, পৌর বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জাকির হোসেন, শহর বিএনপির নেতা ফরহাদ হোসেন, জেলা তরুণ দলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া সরকার, মহিলা দলের নেত্রী আইনুর নাহার কলি, মহিলা দলের নেত্রী স্বর্ণা, যুবদল নেতা রিপন আহমেদ, শ্রমিক নেতা নাঈম, যুবনেতা ওলি, হাবিব, পাপ্পু প্রমুখ।
শাড়ি-লুঙ্গি হাতে পেয়ে হাসপাতালের সনাতনী কর্মচারীদের চোখে-মুখে ছিল আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা। তারা বলেন, "দুর্গাপূজার আগে এমন উপহার আমাদের জীবনে অনেক বড় পাওয়া। আমরা মির্জা মোস্তফা জামানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।"
এই ধরনের আয়োজন শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দীপনার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবিক সমাজ গঠনের পথচলার অংশ। সিরাজগঞ্জে বিএনপির এই মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।