ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে (Department of Justice - DOJ) রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার যে অভিযোগ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা সতর্ক করে বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল মার্কিন গণতন্ত্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করবে না, বরং এটি খোদ ট্রাম্প এবং তার মিত্রদের জন্যই একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করতে পারে যা ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হতে পারে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং মামলা করার জন্য বিচার বিভাগের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করছে। সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি-র বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অনেকেই এই "রাজনৈতিক প্রতিহিংসার" একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করছে যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিয়ে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত ইচ্ছাপূরণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতার এই অপব্যবহারের দুটি বড় বিপদ রয়েছে। প্রথমত, এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাকে নষ্ট করে দেয়। যখন জনগণ মনে করে যে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়, বরং রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে এর প্রয়োগ হয়, তখন আইনের শাসন ভেঙে পড়ে।
দ্বিতীয়ত, এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এটি একটি "প্রতিশোধের চক্র" তৈরি করতে পারে। আজ ট্রাম্প প্রশাসন যদি তার প্রতিপক্ষদের দমনের জন্য বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রশাসন ক্ষমতায় এসে একই পন্থায় ট্রাম্পের অনুসারী বা তার দলের নেতাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। অর্থাৎ, যে অস্ত্র তিনি আজ ব্যবহার করছেন, সেই অস্ত্রই আগামীকাল তার বিরুদ্ধে ঘুরে যেতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। যদি এই প্রতিষ্ঠানটি একবার ক্ষমতাসীনদের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হাতিয়ারে পরিণত হয়, তবে তা থেকে মার্কিন গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে।