মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের খড়কি গ্রামে পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অনুষ্ঠিত সালিশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টানা দুই দিন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে জগদীশপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলামও রয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে শুরু হওয়া সংঘর্ষ বুধবার (৩ জুন) দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খড়কি গ্রামের আহম্মদ মিয়া ও তোফাজ্জুল মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকেলে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক চলাকালে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারের মধ্যে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাতভর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে। এতে নারী-পুরুষসহ বহু মানুষ আহত হন।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা লিটন ইসলাম জানান, ঢাকায় আহম্মদ মিয়ার একটি ফার্নিচারের দোকানে তোফাজ্জুল মিয়া কাজ করতেন। ঈদের আগে আহম্মদ মিয়ার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে ঢাকায় সালিশ হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। ঈদের পর টাকা দাবি করতে গেলে আহম্মদ মিয়ার ভাতিজা শরীফ মিয়াকে মারধরের ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
মঙ্গলবার রাতের সংঘর্ষের পর বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবারও দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে।
জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন কাজ করছে।
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন।