রিপোর্ট মেহেদী হাসান: দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে খোদ সরকারি দপ্তরেই হামলার মুখে পড়লেন সংবাদকর্মীরা। নরসিংদীতে সমাজসেবা কার্যালয়ের অনিয়মের তথ্য জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে প্রাণনাশের হুমকি ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জেলাজুড়ে বইছে নিন্দার ঝড়; নিরাপত্তাহীনতায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি অফিসের ভেতরেই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হলেন কর্মকর্তারা। নরসিংদী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে তখন চলছিল দুর্নীতির এক বিশেষ তদন্ত। আর সেই তদন্তের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়াটাই যেন কাল হলো সংবাদকর্মীদের জন্য।
আজ ৭ এপ্রিল দুপুরে ‘দেশগ্রাম’ পত্রিকার প্রতিনিধি মেহেদী হাসানসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী উপ-পরিচালকের কক্ষে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে, নরসিংদীর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নঈম জাহাঙ্গীর এবং নারায়ণগঞ্জের বর্তমান উপ-পরিচালক মাসুদুল হাসান তাপস পেশাগত কাজে শুধু বাধাই দেননি, মেজাজ হারিয়ে সাংবাদিকদের সাথে শুরু করেন চরম আক্রমণাত্মক আচরণ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, একপর্যায়ে ওই দুই কর্মকর্তার ইশারায় ৫ থেকে ৬ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের ঘিরে ফেলে। অফিসের ভেতরেই অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয় গালিগালাজ আর প্রাণনাশের হুমকি। দুর্নীতির খবর চাপা দিতে কর্মকর্তাদের এমন 'মাস্তানি' সুলভ আচরণে হতবাক উপস্থিত সংবাদকর্মীরা।
সাংবাদিক মেহেদী হাসান, "আমরা তথ্য নিতে গিয়েছিলাম, কোনো অপরাধ করতে নয়। কিন্তু তারা যেভাবে আমাদের ঘিরে ধরে হুমকি দিয়েছে, তাতে মনে হয়েছে এটা কোনো সরকারি অফিস নয়, বরং কোনো অপরাধীদের আস্তানা। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ নরসিংদীর সাংবাদিক সমাজ। বিকেলে নরসিংদী মডেল থানায় অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মেহেদী হাসান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে চললেও, পুলিশ বলছে—তদন্ত করে আইনের সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্য অধিকার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাংবাদিকদের মুখ চেপে ধরার এই চেষ্টা মুক্ত সাংবাদিকতার পথে বড় বাধা বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়, আইনের সেবকরা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ভূমিকা রাখে।