close

লাইক দিন পয়েন্ট জিতুন!

খালেদা জিয়াকে হয়রানির অভিযোগে দুদকের তিন সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দুর্নীতির মামলার আড়ালে রাজনৈতিক হয়রানি? বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক তিন চেয়ারম্যান ও এক সচিবের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ম..

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এবার আলোচনার বিষয়বস্তু একটি বিস্ফোরক মামলা, যেটি দায়ের হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক তিন চেয়ারম্যান এবং এক সচিবের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দুর্নীতির মামলা দায়ের করে তাঁকে হয়রানির শিকার করা হয়েছে— এমন দাবি তুলে ঢাকার আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি দায়ের করেছেন একজন নাগরিক, যাঁর পক্ষে আইনজীবী মো. হোসেন আলী খান হাসান রোববার (২৫ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমান-এর আদালতে বাদীর জবানবন্দি উপস্থাপন করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা কারা?

এই মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক তিন চেয়ারম্যান ও এক সচিবের:

  • হাসান মশহুদ চৌধুরী

  • মো. হাবিবুর রহমান

  • আবুল হাসান মনজুর

  • এবং সাবেক সচিব মোখলেছ উর রহমান

বাদীপক্ষের অভিযোগ, তারা সবাই মিলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে, একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

আইনের অপব্যবহার?

মামলার আইনজীবী মো. হোসেন আলী খান হাসান বলেন,

“সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছিল। এই অপকর্ম শুধু রাজনৈতিক হয়রানির চূড়ান্ত উদাহরণ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নষ্ট করার চক্রান্তেরও প্রতিচ্ছবি।”

আদালতের নির্দেশ ও পরবর্তী পদক্ষেপ

মামলাটি গ্রহণ করে আদালত সিআইডিকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে অভিযুক্তদের ভূমিকা, রাজনৈতিক প্রভাব, এবং মামলার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তদন্তের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্নের জবাব মিলবে—
“দুদক কি আদতে স্বাধীনভাবে কাজ করে, না কি কখনো কখনো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়?”

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ

এ মামলার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ, যা "দীর্ঘদিনের অন্যায়ের বিচার চাওয়ার অংশ"।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কেউ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার রেশ রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার জন্ম দেবে।

বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। এই অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বের মামলাগুলো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সেগুলো কি আদৌ নিরপেক্ষ ছিল?

এই মামলার ফলাফল ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বিচারপদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator