আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রকাশিত হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল। একসঙ্গে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফল জানা যাবে ওয়েবসাইট, এসএমএস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে।
২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পেতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায়। দেশের সব সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে একযোগে এই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড—এই ১১টি বোর্ডের ফলাফল একযোগে সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা ফলাফল জানতে পারবে তিনটি সহজ উপায়ে—ওয়েবসাইট, এসএমএস এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে।
প্রথমত, অনলাইনে ফলাফল দেখতে হলে শিক্ষার্থীরা যেতে পারবে www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে। সেখানে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সহজেই ফলাফল জানা যাবে।
দ্বিতীয়ত, এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল পাওয়া যাবে। এর জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে —
HSC [বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর] [রোল নম্বর] 2025
এরপর পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতি এসএমএসে ফলাফল জানানো হবে।
তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা পরীক্ষা কেন্দ্র থেকেও ফলাফল পাওয়া যাবে। শিক্ষার্থীরা চাইলে সরাসরি নিজেদের কেন্দ্র থেকেও ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে।
ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে একই দিন সকাল ১০টায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।
ফলাফল প্রকাশের পর যারা নিজেদের প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে আপত্তি জানাতে চান, তারা ১৭ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে করা যাবে—https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। কোনো শিক্ষা বোর্ড অফিসে সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
এ বছর মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিলেন। এর মধ্যে ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী। সারা দেশে ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে এবার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় সোয়া ১২ লাখ পরীক্ষার্থী।
শিক্ষাবোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এবার ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যেন সহজে ও দ্রুত ফলাফল জানতে পারে সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব বোর্ড প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বোর্ডের ওয়েবসাইটে সার্ভার বাড়ানো হবে যাতে কোনো শিক্ষার্থী ফলাফল দেখতে গিয়ে সমস্যায় না পড়ে। বিশেষ করে মোবাইল ও কম্পিউটার উভয় মাধ্যমেই একসঙ্গে ফলাফল দেখা যাবে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। অনেকে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। ফলাফল প্রকাশের পরই শুরু হবে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়া।