মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরও ছয়জন আসামির সঙ্গে শাজাহান খানের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদন করা হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের বিরুদ্ধেও।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি বলেন, “আসামিরা হত্যা মামলার এজাহারনামীয়। সুষ্ঠু তদন্ত ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।”
শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে ‘জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের’ অনুরোধ
আদালতে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি পেয়ে শাজাহান খান বলেন, “আমার হার্টে পাঁচটা ব্লক। আমি আন্দোলনের সময় চিকিৎসাধীন ছিলাম। আমাকে যখন প্রথম চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়, তার দুই দিনের মধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি অনুরোধ করবো, যদি জিজ্ঞাসাবাদ করতেই হয় তবে জেলগেটেই করা হোক। আর মামলা যদি করতেই হয়, তাহলে গায়েবি মামলা না দিয়ে স্পষ্ট অভিযোগে মামলা দেওয়া হোক।”
আদালত উত্তপ্ত, ‘মৌলিক অধিকার’ প্রসঙ্গে শাজাহান
শাজাহান খান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। কেউ কেউ কটাক্ষ করে কথা বললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ছাত্রলীগ নেতা সৈকত কথা বলার চেষ্টা করলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো হত্যাকাণ্ড হয়নি।”
এ পর্যায়ে শাজাহান খান বিচারকের উদ্দেশে বলেন, “আপনার সামনেই আমাদের থ্রেট দেওয়া হচ্ছে, আপনি এর বিচার করবেন তো?” এরপর মহানগর পিপি বলেন, “আসামিদের কথাবার্তার কারণে আদালতের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আদালত যেন তাদের কথা বলার ব্যাপারে আরও সতর্ক হয়।”
শেষ পর্যন্ত শাজাহান খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখন তো আমাদের কথা বলাও যাবে না।”
শাজাহান খান বলেন, আগে জামায়াত-জিয়া-খালেদার বিচার করুন। গায়েবি মামলায় হয়রানি নয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ চাই। আদালতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তাব।



















