চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার হযরত শাহ নেয়ামত শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে এক আকস্মিক পরিদর্শনে যান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ। বিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক পরিবেশ যাচাই এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই পরিদর্শনে তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। মূলত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি হ্রাস পাওয়া এবং শিক্ষা কার্যক্রমের গতিশীলতা কমে যাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। শিক্ষা কর্মকর্তা এসময় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ করেন এবং পাঠদানের পরিবেশসহ সার্বিক অবকাঠামোগত অবস্থা খতিয়ে দেখেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারের নির্দেশিত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। পরিদর্শনকালে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, যা আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উঠে আসলেও শিক্ষা কর্মকর্তা মূলত শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষকদের সময়মতো স্কুলে আগমন, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং হাজিরা খাতায় সঠিক সময় লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও ল্যাব ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণের বিষয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নির্দেশনা দেন যে, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে কোনো শিক্ষার্থীই মূলধারার শিক্ষা থেকে ছিটকে না পড়ে। একইসঙ্গে বিদ্যালয়ের ভেতরে নোট বা গাইড বইয়ের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তিনি সৃজনশীল পদ্ধতির চর্চায় জোর দেন। ভুক্তভোগী অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি জানান যে, শিক্ষকদের সঠিক নজরদারি ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনার বিপরীতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক শৃঙ্খলা ফেরাতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এবং শৌচাগার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এখন থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কারণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। তিনি মাঠ পর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধির কথা জানিয়ে বলেন, নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষকদের কর্মতৎপরতা যাচাই করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের বাইরে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা বা ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার মতো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয়ের একাডেমিক মানোন্নয়নে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শিক্ষা কর্মকর্তার এই কঠোর অবস্থান কেবল হযরত শাহ নেয়ামত শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্যই নয়, বরং পুরো কচুয়া উপজেলার শিক্ষা খাতের জন্য একটি বার্তা হিসেবে কাজ করছে। বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং পাঠদান পদ্ধতি নিয়মিত তদারকির আওতায় থাকলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমে আসবে এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিশেষে, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা দূর করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। নিয়মিত তদারকি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আদর্শ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব, যা আজকের পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।