বরগুনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি হতে সাবেক সেক্রেটারীর পদত্যাগ!..

Mir Sayeem avatar   
Mir Sayeem
বরগুনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি হতে সাবেক সেক্রেটারীর পদত্যাগ!..
বরগুনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি হতে সাবেক সেক্রেটারীর পদত্যাগ!..
বিশেষ প্রতিবেদন: বরগুনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি থেকে সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সংস্থাটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন:..

বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি বরাবর তিনি লিখিতভাবে পদত্যাগপত্রটি জমা দিয়েছেন!

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) স্বাক্ষরিত গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের স্মারকে গঠিত অ্যাডহক কমিটির ৬ নম্বর ক্রমিকে তাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে তার দাবি, এ বিষয়ে তার কোনো পূর্বসম্মতি নেওয়া হয়নি!!

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, তিনি নিজেকে একজন ক্রীড়াবিদ নয়, বরং দীর্ঘদিনের ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন। তবে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কমিটির বাইরে থেকে জেলার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পদত্যাগপত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে চিঠির অনুলিপি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান ও পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) বরাবর পাঠানো হয়েছে। এদিকে তার পদত্যাগকে ঘিরে বরগুনার ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ফলে নতুন অ্যাডহক কমিটিতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব না দেওয়াকে অনেকেই অসম্মানজনক হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় কয়েকজন ক্রীড়া সংগঠকের দাবি, নবগঠিত কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া হারুনুর রশিদ রিংকুকে ঘিরে আগে থেকেই নানা বিতর্ক ও সমালোচনা রয়েছে! স্থানীয় সামাজিক, ক্রীড়া ও সাংবাদিক মহলের একাধিক সূত্রের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাকালে নানা অনিয়ম ও বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতেন এবং ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতেন। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, বরগুনা সদরঘাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনেও তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় মহলের দাবি, দখল, বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মতো কর্মকাণ্ড নিয়েও তাকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে।

সাংবাদিক অঙ্গনেও তাকে ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও অপকৌশলে তিনি বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনে নেতৃত্বের অবস্থান তৈরি করেছেন। বরগুনা প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করেও বিভ্রান্তিকর পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক কাঠামো বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ে প্রচারণা চালিয়ে ছিলেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ক্রীড়া সংস্থার এক সাবেক সদস্য বলেন, 'রিংকু দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেছেন। আর এগুলো কর্মকান্ডে ক্রীড়াঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'

অন্যদিকে বরগুনার এক স্থানীয় ক্রীড়াবিদ বলেন, 'তিনি পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান পরিবর্তন করেন। অনেকেই তাকে সুবিধাবাদী চরিত্র হিসেবে দেখেন।'

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হারুনুর রশিদ রিংকুর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি---

Inga kommentarer hittades


News Card Generator