close

ভিডিও দেখুন, পয়েন্ট জিতুন!

বিএনপি নেতার গুদাম থেকে ১০৪ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিএনপি নেতার গুদাম থেকে উদ্ধার হলো ৫ হাজার ২০০ কেজি সরকারি চাল। ঘটনায় জনমনে চাঞ্চল্য, দায়ের হলো মামলা—তবে অভিযুক্ত এখনো পল..

সরকারি সহায়তা নয়, নিজের গুদামে! জামালপুরে বিএনপি নেতার গুদাম থেকে ১০৪ বস্তা চাল উদ্ধার

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ঘটেছে এক রোমাঞ্চকর ও উদ্বেগজনক ঘটনা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো যৌথ অভিযানে একটি রাজনৈতিক নেতার গুদাম থেকে উদ্ধার হয়েছে শতাধিক বস্তা সরকারি চাল। অভিযুক্ত ব্যক্তিটি বিএনপি নেতা হওয়ায় এ ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

অভিযানের চিত্র

সোমবার (১৯ মে) রাতে, সময় আনুমানিক সাড়ে ১১টা। জনসাধারণ যখন গভীর নিদ্রায় নিমগ্ন, ঠিক তখনই সরিষাবাড়ীর পিংনা বাসুরিয়া এলাকায় গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। নেতৃত্বে ছিলেন লেফট্যানেন্ট শাহারিয়া তালুকদার রিফাত, উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা রিছিল এবং ভূমি সহকারী কর্মকর্তা।

অভিযানে একে একে বেরিয়ে আসে ৫০ কেজি ওজনের ১০৪ বস্তা চাল—যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার ২০০ কেজি। সবগুলো বস্তাতেই ছিল সরকারি ‘ভিজিডি’ (Vulnerable Group Development) প্রোগ্রামের সিল মারা চাল। এই চাল ছিল দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য নির্ধারিত। অথচ এসব চাল গুদামজাত করে রাখা হয়েছিল একটি ব্যক্তিগত গুদামে।

কে এই আলী হোসেন?

এই অবৈধ মজুতকৃত চালের গুদামটি ছিল মো. আলী হোসেন নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন। জানা গেছে, তিনি পিংনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি। বাসুরিয়া গ্রামের মৃত লাল মাহমুদের ছেলে এই আলী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন পরিচিত মুখ হলেও, এখন তার বিরুদ্ধে উঠেছে চরম দুর্নীতির অভিযোগ।

অভিযানের সময় আলী হোসেন পালিয়ে যান, ফলে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রশাসনের কড়া বার্তা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লিজা রিছিল বলেন, “সরকারি ভিজিডি বস্তায় ৫ হাজার ২০০ কেজি চাল অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছিল। এ চাল জনগণের, যারা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, তাদের সহায়তার জন্যই সরকার এসব বরাদ্দ দেয়। এসব চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে গুদামজাত করা হয়েছে—এটা স্পষ্ট অপরাধ।”

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সরকারি সহায়তার চাল কালোবাজারে তুলতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের অবস্থান

সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান বলেন, “উদ্ধারকৃত চালগুলো পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি জানাজানির পর স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিন্দার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, যাদের উপর জনগণের সেবা ও দায়িত্বের ভার, তারাই যদি এভাবে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

 

জনগণের সহায়তায় বরাদ্দকৃত সরকারি চাল যদি রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় কালোবাজারে মজুত হয়, তবে তা শুধু আইনগত অপরাধই নয়, নৈতিকতার পরিপন্থীও বটে। আলী হোসেনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপনই এখন সময়ের দাবি। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, দুর্নীতি দমনে প্রশাসনের তৎপরতা এবং জনসচেতনতার যৌথ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator