close

লাইক দিন পয়েন্ট জিতুন!

আইএইএ ইরানের পরমাণু স্থাপনা আর পরিদর্শন করতে পারবে না

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ইরান আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে নতুন আইন পাস করলো, যা পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শনের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করেছে।..

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং ইরানের সম্পর্ক এখন নতুন মোড় নিয়েছে। গত বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অনুমোদন দিয়েছেন একটি নতুন আইন, যা আইএইএর সঙ্গে ইরানের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্পূর্ণরূপে স্থগিত করে। এই আইন অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শনের জন্য আইএইএকে তেহরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নিতে হবে।

এই আইন পাশের পেছনে ইরানের পার্লামেন্টের গত সপ্তাহের একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট এ সপ্তাহে একটি বিল পাস করেছিল, যা আইএইএকে দেশের পারমাণবিক স্থাপনায় যেকোনো পরিদর্শনের জন্য কঠোর শর্ত আরোপ করেছে।

গত মাসে তেহরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর, ইরান আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধের হুমকি দিয়েছিল। ইরান মনে করে, আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থাটি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাবাধীন এবং ইসরায়েলের বিমান হামলার পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করছে। তারা অভিযোগ করে যে আইএইএ তাদের কাজের মাধ্যমে ইসরায়েলের হামলার যৌক্তিকতা প্রদান করছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতি বিরোধী।

আইএইএর পরিচালনা পর্ষদও এর আগেই ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) অধীনে নিজেদের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনার পক্ষে ভোট দেয়। এ পদক্ষেপের পর ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় আইএইএর যেকোনো পরিদর্শনের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করে।

নতুন আইন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আইএইএর পরিদর্শনের জন্য তেহরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা আইএইএর জন্য নতুন একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোমা বর্ষণে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ‘ফর্দো’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বলেন, এই হামলা ইরানের পারমাণবিক শান্তিপূর্ণ কার্যক্রমে বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং এ কারণে ইরানের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পরমাণু নিয়ন্ত্রণ ও মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন ধাপ সূচিত করেছে। ইরানের এই সিদ্ধান্তের ফলে আইএইএর ইরানে কার্যক্রম সীমিত হবে এবং এর প্রভাব বিশ্ব পারমাণবিক নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানের এই নতুন আইন ও আইএইএর বিরোধিতা দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা প্রক্রিয়ায় নতুন অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন কূটনীতিকরা।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং পরবর্তী কূটনৈতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কি প্রভাব পড়ে তা নিয়ে নানা দিক থেকে নজর রাখছে।

Nema komentara


News Card Generator