খুলনার শাহপুর–দৌলতপুর সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে, দুর্ভোগে শিক্ষক, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা।খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর–দৌলতপুর সড়কটি বর্তমানে স্থানীয় জনগণের জন্য এক ভয়ানক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং অসমাপ্ত কাজের কারণে এই সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে, যা প্রতিদিনের যাতায়াতে প্রচণ্ড ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশে যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। থুকড়া কাছারী বাড়ি আরআরজিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান বলেন, “খুলনার নিরালা থেকে মোটরসাইকেলে নিয়মিত যাতায়াত করতে গিয়ে গাড়ির যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি শরীরেও প্রচণ্ড ব্যথা হয়।” তাঁর এই কথায় বোঝা যায়, সড়কটি শুধু যানবাহনের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক কষ্টও বয়ে আনছে। থুকড়া সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, “বয়রা থেকে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিন বাড়ি ফেরার পর শরীরের ব্যথায় রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে।” তিনি জানান, সড়কের কারণে ব্যক্তিগত জীবনে ব্যাঘাত ঘটছে এবং প্রতিদিনের কাজকর্মে প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহপুর থেকে থুকড়া পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের কাজ ঠিকাদার অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি চলছে। অন্যদিকে থুকড়া থেকে বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের নতুন কাজের বাজেট ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও সরকারি জটিলতায় ফাইল আটকে রয়েছে। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, “শাহপুর–থুকড়া অংশের অসমাপ্ত কাজ পুনরায় সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। থুকড়া থেকে শলুয়া বাইপাস শেষ পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের কাজ অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ফাইল ফেরত এলে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।” উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমিটির আহ্বায়ক নুরুন্নবী খোকা বলেন, “সড়কের কারণে শিক্ষার্থীদের বি.এল. কলেজের বাসসেবাও বন্ধ হয়ে গেছে।” সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই রাস্তা নিয়ে আর কথা বলতে ভালো লাগে না—আমরা কি অভাগার মতো চেয়ে চেয়েই থাকব?” স্থানীয়দের প্রশ্ন—আর কতদিন এই মরণফাঁদে চলবে মানুষ? সড়কটির অবস্থা যদি দ্রুত উন্নত করা না হয়, তবে জনজীবনে এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। সড়কটি মেরামত করা না হলে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাবে এবং এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হবে। এই সড়কটি খুলনার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক এবং এর উন্নতি না হলে তা খুলনার সামগ্রিক উন্নয়নের পথেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। স্থানীয় সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সড়কটির উন্নয়ন করা, যাতে করে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি দূর হয় এবং তারা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে। সড়কের অবস্থা উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করে কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করা দরকার। স্থানীয় জনগণ আশাবাদী যে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং তাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।ট্যাগস: খুলনা, সড়ক নিরাপত্তা, অবকাঠামো, স্থানীয় সরকার